গণতন্ত্র-রাজনীতি: উন্নয়ন-দুর্নীতির ব্যাস্তানুপাতিক সম্পর্ক নির্ণয়

দুর্নীতি হলো প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি, আচার-আচরণ, আইনকানুন এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে উদ্ভূত এমন এক পরিস্থিতি যা সঠিকভাবে উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যাহত করে।

গ্যূঢ়ার্থে অবহেলা,ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অবৈধ স্বার্থ হাসিল করাকে দুর্নীতি বলে।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্নীতিপ্রবণ দেশগুলোর একটি। বর্তমানে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম অবস্থানে আছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়। অতীতে দুর্নীতিতে পাঁচবারের মতো শীর্ষস্হানে অবস্থান করার মতো লজ্জার রেকর্ডও বাংলাদেশের আছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি ও শোষন এ অঞ্চলের মানুষের সাথে বহুল পরিচিত একটি বিষয়। এ অঞ্চল সুদূর অতীত থেকে সম্পদ ও প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বৈদেশিক শক্তি বারবার এ অঞ্চলের উপর তাদের লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছিল। এভাবে অতীত থেকেই এ অঞ্চল শোষিত হয়ে আসছে।
সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং বর্তমানে এ দেশের শাসকদের দ্বারা দুর্নীতি ও শোষনের করাল গ্রাস থেকে এ জাতি কখনো মুক্তি পায় নি। এদেশের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি সেক্টর আর দুর্নীতি প্রায় মিলেমিশে একাকার। রাষ্ট্রীয় সেক্টরগুলোর প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে দুর্নীতির ভয়াল থাবা। বাংলাদেশে শুধু যে রাষ্ট্রীয় সেক্টরগুলোতে দুর্নীতি হয় বিষয়টি এমন না। অন্যান্য বেসরকারী খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ইত্যাদির মধ্যেও ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতি বিদ্যমান।
অনেকক্ষেত্রে পরিবার থেকেই শিশুদের মধ্যে দুর্নীতির বিষাক্ত বীজ বপন করে দেওয়া হয়।

একজন পিতা-মাতা যখন সন্তানকে ভালো স্কুল -কলেজে, কাঙ্খিত গ্রুপে ভর্তি করানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দেয়, সন্তানের জন্য ঘুষ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করে, অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সংসারের জীবীকা নির্বাহ করে, হর-হামেশাই দেশের আইন ও নীতিবিরুদ্ধ কাজ করে, ছেলেমানুষী হিসেবে সন্তানের বিভিন্ন অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় তখন ঐ সন্তানেরা এসবকিছুকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ধরে নেয়। তারা মনে করতে শুরু করে এসব করে জীবন পরিচালনা করা কোনো খারাপ কিছু নয়। এভাবেই সন্তানেরা ধীরে ধীরে লঘু থেকে গুরুপাপে প্রকারান্তরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।


দুর্নীতির পেছনে একটা বড় নিয়ামক হচ্ছে আমাদের সমাজের ভোগবাদী মানসিকতা। এ সমাজের মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই।যেভাবেই হোক কাউকে ঠকিয়ে বা প্রতারণা করে কে কতটুকু সম্পদ বা অর্থ-বিভৈবের মালিক হতে পারে সমাজের প্রতিটি স্তরেই সবাই এই অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আর এটাকেই তারা জীবনের সর্বোচ্চ সুখের মাপকাঠি হিসেবে ধরে নেয়।
আমাদের অধিকাংশ পরিবারেই সন্তানদেরকে ছোটবেলা থেকে একটাই শেখানো হয় তোমাকে বড় হয়ে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক হতে হবে, বাড়ি- গাড়ি অর্জন করতে হবে। যেন এগুলোই জীবনের পরম সার্থকতা। তাদেরকে এটা শেখানো হয় না যে তোমাকে বড় হয়ে ভালো এবং নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে। এভাবে ছোটবেলা থেকেই আমাদের সন্তানেরা দুর্নীতিপ্রবণ হয়ে ওঠে।


রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থাৎ গণতন্ত্রহীনতাই দুর্নীতির প্রধান কারণ। কেননা রাজনীতি, গণতন্ত্র, প্রশাসন, দুর্নীতি এ শব্দগুলো একে অপরের সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত।

আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেতো এটি প্রকাণ্ড আকারে বিদ্যমান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দ্বারা এদেশে বারবার গণতন্ত্র ভূলন্ঠিত হয়ে আসছে। প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে যখন ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন প্রশাসন, রাজনীতি, আমলা, দুর্নীতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কেননা এর মাধ্যমে প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রের জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা সেটি হারিয়ে যায়। তাদের মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতার ভাব সৃষ্টি হয়। ফলে সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র ও আমলাদের উপর জোর দিয়ে কথা বলার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে সব পক্ষই তখন দুর্নীতি করাকে স্বাভাবিক তথা তাদের অধিকার ভাবা শুরু করে এবং এভাবেই এদেশে দুর্নীতি এক প্রকার বৈধতা হিসেবে স্থান লাভ করে। যার চরম মাশুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগণকে। দেশ পিছিয়ে পড়ে বছরের পর বছর। বাংলাদেশে বড় বড় রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে। রাজনীতিবিদ এবং আমলারা যোগসাজশে দুর্নীতি করে।
অনেকেই দুর্নীতি এবং উন্নয়নকে এক করে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার একটা চেষ্টা করে থাকে। তাদের যুক্তি হলো যেখানে উন্নয়ন হবে সেখানে দুর্নীতি থাকবেই। তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেয়া হয় যে যেখানে উন্নয়ন সেখানে দুর্নীতি হবে। কিন্তু যখন উন্নয়নের নামে সবটুকুই দুর্নীতি হয় তখন সেটি দেশ ও জাতির জন্য মহাবিপর্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
অতীতে যারা দুর্নীতি করত গোপনে করতো।দুর্নীতিবাজদের মধ্যে একটা লজ্জাবোধ কাজ করত। তারা দৃষ্টির অগোচরে থেকে দুর্নীতি করতো। কিন্তু বর্তমানে দুর্নীতি একটি প্রকাশ্য কর্মকান্ডে পরিণত হয়েছে। তাদের মধ্যে ন্যূনতম লজ্জা ও সংকোচবোধ কাজ করে না। অনেকক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা সমাজের মধ্যমণি হয়ে ওঠে। দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক অর্থ-বিভৈববের মালিক হওয়াটাও এখন সমাজে প্রতিপত্তি অর্জনের উৎস হিসেবে বিবেচিত। আর ঠিক এ কারণেই হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক সহ অন্যান্য ব্যাংক থেকে
হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশ কান্ড, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পর্দা কান্ড এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যখাতের সফটওয়্যার ও চামুচ কান্ডের মতো মহাদুর্নীতি চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। পাচারকৃত অর্থের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
এতদ্বস্বত্তেও এসব মহাদুর্নীতিবাজরাই আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রের হর্তা-কর্তা হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও এসব দুর্নীতিবাজদের হাতে থাকে। এদের কেউ কেউ সাংসদ, মন্ত্রী। আবার কেউ হন প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিষয়ক পরামর্শক তথা উপদেষ্টা। এসব লুটেরাই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসে, বিভিন্ন টকশোতে গিয়ে রাষ্ট্রের জনগণকে নীতি-নৈতিকতার গল্প শুনায়। এর চেয়ে বড় ভণ্ডামি আর কপটতা কি হতে পারে? এদেশে দুর্নীতির দায়ে দুদকের পরিচালককে বহিষ্কৃত হতে হয়। এই যদি হয় একটি রাষ্ট্রের শাসক বর্গের অবস্থা সেখানে লজ্জা ছাড়া গর্ব করার মতো কিছু থাকে না, ভবিষ্যতে অন্ধকার ছাড়া আলো দেখা যায় না।
দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পরোক্ষভাবে মানুষকে দুর্নীতি করতে উদ্ভুদ্ধ করে। সীমাহীন লাভের আশাও মানুষকে দুর্নীতির দিকে ধাবিত করে।

প্রতিটি মানুষই দুর্নীতিবাজ। মিডিয়ার বদৌলতে আমরা শুধু বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকেই চিনি এবং টাকা আত্মসাৎ করাকেই দুর্নীতি বলে জানি। কিন্তু বাস্তবে দুর্নীতির ক্ষেত্র ও ব্যাপকতা আরো বিশাল।

বাসে করে ভাড়া না দিয়ে চলে যাওয়া, আবার অপরিচিত যাত্রীকে বেশি ভাড়ার মাধ্যমে হয়রানি করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে রাখা, গ্রাহককে তার প্রাপ্য সেবা না দেওয়া বা সেবা থেকে বঞ্চিত করা, ক্রেতাকে বিভিন্নভাবে ঠকানো ও প্রতারণা করা, বিদ্যালয় থেকে শুরু করে অফিস আদালত যেকোনো ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা অথবা দায়িত্ব অবহেলা করা, দেশের আইনশৃঙ্খলা মেনে না চলা এসবকিছুই প্রকারান্তরে দুর্নীতির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। এভাবেই প্রতিনিয়তই দুর্নীতি আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত হয়ে আছে।
আসলে যে যার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব সুযোগ পাচ্ছে ততটুকু দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে। পার্থক্য হচ্ছে কেউ বেশি সুযোগ পায় কেউ কম সুযোগ পায়। যেমনঃ একজন মুদি দোকানদারের পক্ষে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়া সম্ভব না। সে তার জয়গা থেকে সর্বোচ্চ ক্রেতাকে ঠকাতে পারে। যেকোনো দুর্নীতিই বর্জন করা বাঞ্ছনীয়। এরপরেও সাধারণ মানুষদের দ্বারা সংগঠিত এসব দুর্নীতি জাতীয় জীবনে এত বেশি প্রভাব ফেলে না। কতিপয় ব্যাক্তিকে বাদ দিলে অধিকাংশ দুর্নীতিই শিক্ষিত মানুষদের দ্বারা ঘটে। এরাই রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে দেয়, বিদেশে পাচার করে কোটি কোটি টাকা।
এবার একটি বিষয়ের অবতারণা করা যাক। সিঙ্গাপুর ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।মালোয়শিয়া দেশটিকে এক প্রকার বের করে।দেওয়া হয়। দেশটির তেমনকোনো উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদও ছিল না। অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল ভঙ্গুর। কিন্তু বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং সমৃদ্ধশালী অর্থনীতিসম্পন্ন রাষ্ট্র। পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্টের বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সিঙ্গাপুর। এই রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত ব্যবস্থা, শিক্ষাখাত, চিকিৎসাখাত, পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন লি কুয়ান ইউ।
অপরদিকে, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৭১ সালে। অনেকক্ষেত্রেই আমাদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু তা খুবই নগন্য। বিশ্বের বুকে খুব কম দেশেরই রয়েছে এত প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েছে বিশাল পণ্যের বাজার। অথচ স্বাধীনতার এত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও অনেক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।
আর সিঙ্গাপুরের সাথে আমাদের এ পার্থক্য গড়ে দিয়েছে তাদের উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা। সিঙ্গাপুরের তৎকালীন জাতীয় নেতৃবৃন্দ সর্বপ্রথম একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে তাদের প্রাশাসনিক ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল। সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জনগণ যার ফল এখন ভোগ করতেছে।
অথচ স্বাধীনতার এত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও বাংলাদেশে।একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি করা যায়নি। বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর কম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তালিকার মধ্যে নেইতো বটেই বরং কম গণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিকতার মাঝামাঝি অবস্থান করছে। যার ফলে আমাদের সর্বক্ষেত্রে এখন অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে আমাদের এত এত অর্জন সব ম্লান হয়ে যাচ্ছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা সর্বক্ষেত্রে একটা সুশৃঙ্খলতা আনয়ন করে দিতে পারে।
উপরন্তু আমাদের দেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত আইন নেই। উদাহরণস্বরূপ, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি হিসেবে তাদের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারি আমলাদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার আইন থাকতে পারতো। কিন্তু এদেশে শুধু সরকারি আমলাদের স্থানান্তর এবং অন্যদের বিরুদ্ধে দু-একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই দুর্নীতিবাজরা এদেশে মাথা উঁচু করে চলে। আইনের চোখকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তারা সমাজে দেদারসে ঘুরে বেড়ায়।
বাংলাদেশে দুর্নীতি কমানোর জন্য প্রথমত, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিবেকবোধ আগে জাগ্রত করতে হবে। নৈতিকতা চর্চায় উদ্ভুদ্ধ হতে হবে, নিজের মধ্যে দেশপ্রেমের চর্চা তথা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। কেননা কোনো ধর্মই কোনোরূপ অনৈতিকতাকে সমর্থন করে না।

দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)কে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। কেউ যেন এ প্রতিষ্ঠানের উপর কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চালাতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে তার বাস্তব প্রয়োগ করা। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। দেশের বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপনা করে সেগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে।
চতুর্থত, নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যত জটিলতা বেশি হবে দুর্নীতি করার সুযোগ তত বেশি হবে। কেননা সাধারণ মানুষ জটিলতা পছন্দ করে না। ফলে এই জটিল প্রক্রিয়া থেকে খুব সহজে পরিত্রাণ পেতে ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়।তাই নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে এসব জটিলতা হ্রাস করে ডিজিটাল ও বাস্তবসম্মত করতে হবে।
সর্বোপরি, দুর্নীতি রোধের জন্য যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। নির্বাচন যাতে কোনেভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় তার দিকে খেয়াল রাখা। কেননা এর মাধ্যমেই জনগণ তার ম্যান্ডেটকে নির্বাচিত করতে পারে। ফলে কেউ সাময়িক দুর্নীতি করতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকতে পারে না। আমাদের সকলের স্লোগান হোকঃ
“চল যাই যুদ্ধে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে “৷

লেখক: খালেদ মাহমুদ, ২য়বর্ষ, সেশন: ২০১৮-১৯

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *