www.du-lakshmipur.org

গল্প না,কল্পনা

হলে উঠলাম মাত্র কিছুদিন হলো।একদিন শ্যাডোতে লেবুর শরবত খাচ্ছিলাম,পাশ দিয়ে হলের এক ভাই তার প্রেমিকা নিয়ে যাচ্ছিলেন,ভাবলাম গিয়ে সালাম দিয়ে আসি,হয়তো ভাইয়া খুশি হবে সিট দিতে এই সালাম কাজে আসবে কিংবা আপু খুশি হয়ে বলবে নাম কি? কোন হল? কোন ডিপার্টমেন্ট? বা বলবে কিছু খাও! এইসব ভাবতে ভাবতেইই ভাই তার প্রেমিকা নিয়ে চলে গেলেন,রাতে ভাইয়া আমাকে প্রচুর বকলো,সালাম না দেওয়াতে! কারণ আমার একটা সালাম হয়তো তার প্রেমিকার কাছে বিশাল মানুষের রূপ দেওয়াবে,কিন্তু তা হতে দি নি আমি…

ভাই উঁচু গলায় বলে দিলো,২ দিন তোকে যাতে হলে না দেখি।ভাইয়ের বকায় কষ্ট পেয়ে প্ল্যান করলাম আর হলে থাকবো না,অন্যকোথায় বাসা খুঁজে সেখানে থাকবো,এই মূহুর্তে মাথায় অনেক চাপ।প্রেমিকাকে কল দিলাম একটা বাসা খুঁজে দিতে,সে পারবে না বলার আগেই ঝগড়া করে মন আরও খারাপ হয়ে হয়ে গেলো! হল থেকে বেরুতেই দেখি হলের টাইগার আর বাকি কুকুরের সদস্যবৃন্দরা খাবার নিয়ে কামড়াকামড়ি করছে,ব্যাগ থেকে বিস্কুট বের করে ওদের ঠান্ডা করার চেষ্টা করলাম,কিন্তু ওরাও অতিষ্ঠ হয়ে কামড়াতে আসবে তার আগেই পালালাম…

বাসায় চলে যাবো ভাবলাম,নীলক্ষেত থেকে সরাসরি নোয়াখালী আসার বাস আছে।বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি চলে যাবো,উহহ না! এমনটা করবো না,আম্মাকে একটা কল দেবো? না দেবো না! আচ্চা কাউন্টার যাই।বাসে উঠবো,টিকিট কাউন্টারে গিয়ে সেখানে ও ঝগড়া বাঁধিয়ে বসলাম এক মুহুর্তে অতিষ্ট হয়ে মারতে আসবে,এমন সময় দৌড়ে পালালাম সেখান থেকে,আমার আর বাড়ি যাওয়া হলো না!  

পলাশীর সে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আজকে বোধহয় পায়ে হেঁটেই যেতে হবে কিন্তু যাবো কোথায় আমার তো কোথায় যাওয়ার জায়গাই নেই তবুও হেঁটেই চলেই হেঁটেই চলেছি৷,আজ না হয় অন্য হলে অন্য কোনো গণরুমে ঘুমাবো,কিন্তু কোথায় উহহহ….

টিএসসির সামনে এক ভিক্ষুকের সঙ্গে দেখা, সে কেঁদে দিয়ে বললো ভাই রাতে কিছু খাইবার পারি নাই কয়ডা ট্যাকা দিবেন? তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে একশো টাকার একটা নোট দিয়ে বললাম মেডিকেল মোড় খাওয়া পেতে পারেন।সে খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে বললো “বাবা,আফনি অনেক ভালা মানোষ,আল্লাহ আফনার ভালো করোক…”

এরপর আবার হাঁটতে শুরু করলাম, ভোর হয়ে আসতেছে, আজান হয়েছে মসজিদে ঢুকে এক কোনায় ব্যাগ রাখলাম বাহিরে জুতো।কিন্তু নামাজ শেষ করে বাহিরে এসে থ মেরে বসে রইলাম, জুতো আর ব্যাগ কিছুই নেই।রওয়ানা দিলাম…

ক্ষিধে পেয়েছে ঢুকলাম একুশে হলের সামনের হোটেলে, মালিক ভিক্ষুক  মনে করলো বললো টাকা আছে? বললাম হ্যাঁ আছে৷ এরপর খেতে বসলাম খাওয়া শেষ করলাম কিন্তু রুমাল পাচ্ছি না৷ মনে পরলো সে ভিক্ষুকের কথা যাকে বুকে জাড়িয়ে নিয়েছিলাম সে পকেট মেরে দিয়েছে। এরপর হোটেল মালিক গালিগালাজ করে টিশার্ট ছিঁড়ে নাক ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরে দেওয়ার আগেই শখের হাতঘড়িটা দিয়ে চলে আসলাম…

হেঁটে চলছি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কার্জনের রাস্তায় হোটচ খেয়ে পরলাম। হাতের কনুই চিঁড়ে রক্ত ঝরছে পায়ের গোড়ালিতেও ব্যাথা পেয়েছি৷ এখন হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে খুব…

আস্তে আস্তে সূর্য মাথায় উঠছে, কোথায় যাবো,কেন যাবো,নাকি হলেই ফিরে যাবো, কার্জনের মাঠে কাত হয়ে শুয়ে রইলাম,এইদিকে বিকেল আসলো, সূর্য পশ্চিমে ঘুমালো কিন্তু আমি ঘুমবো কোথায়?

একটা গাছের নিচে বসলাম হঠাৎ গাছের ডাল ভাঙ্গার শব্দ পেয়ে সরে গেলাম একটুর জন্য উপরে পরেনি৷ এরপর ওখান থেকে সরে খোলা আকাশের নিচে বসলাম…

আকাশে চাঁদ উঠেছে, চাঁদের আলোয় চারপাশ জ্বলজ্বল করছে৷ আমি খোলা আকাশের নিচে শুয়ে চাঁদের দিকে  তাকিয়ে আছি এক দৃষ্টিতে আর গভীর ভাবনায় মগ্ন আছি কি আমি?কে আমি? একটা সালামের জন্য আজ এখানে কেন আসলাম? আচ্চা ভাইয়ের প্রেমিকাকে সালাম দিলে ভাইয়ের প্রেম কি কবরে চলে যেতো? 


লেখক:আনিসুর রহমান সৈকত

সেশন: ২০১৮-১৯

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *