গোলাপ-খুশবুময় লক্ষীপুর: সংবেদন ও অনুচিত্রের অনুরণন

‘অতীত ও বর্তমান হচ্ছে পানির মতো । পূর্বের পানি ও বর্তমানের পানি যেমন সামঞ্জস্য, তেমনি অতীত ও বর্তমান সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘- ইবনে খালদুন ।

‘আমরা সবসময়ই পরিস্থিতির পট- পরিবর্তনের মধ্যে থাকি যা আমাদের সঙ্গে থেকেই যায়, তা হল নদী ‘-কলম্বিয়ান লেখক ও সাংবাদিক পাউল ব্রিতো।

জাতিগত আত্মপরিচয়ের সাথে আত্মসম্মান জড়িত থাকে।কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমাজ-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকপরম্পরা, আর্থসামাজিক বিবর্তন তথা জনসমাজের নিজস্ব ইতিহাস জানার ইচ্ছা পোষণের অন্তর্নিহিত স্বার্থ থাকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্পর্কে অবগতি লাভ করা। ঐতিহ্যের সিড়িতে উঠানামা করে জাতীয় জীবন, স্বদেশ, গোটা পৃথিবী। ঐতিহ্য-লালন শিকড়হীন পরগাছার বিপরীতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তোলারও কোশেশ বটে।

আমাদের এ ভূখণ্ডের ইতিহাসের প্রাচীনত্বের (Antiquity) জন্য এখানকার লোকাচার চর্চা শুধুমাত্র পাশ্চাত্যের অনুকরণে সমকালীনতা (Synchronic) ধারার হলে এর ঘটনাবলীর সুলুক সন্ধান সুদূরপরাহত হয়ে যায়। আমাদের লোকাচার চর্চায় ঘটনাবলীর (Factors) ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইতিহাসের প্রেক্ষিতের (diachronic) ছাঁচে গঠিত আঞ্চলিক উপস্থাপন ব্যতীত সেই বয়ান ভূয়োদর্শনলব্ধ হয় না।

অনেকের মতে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় অবস্থিত এ জেলা প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসে তাৎপর্যবহ হওয়ায় ‘লক্ষ্মীপুর’ বা ‘সৌভাগ্যের নগরী’ নামকরণ করা হয়।অন্যমতে, ঐতিহাসিক ‘লক্ষ্মীদাহ পরগনা’ থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ।

সবাই জানেন, এই ভূখণ্ডের সভ্যতায় প্রাচীনতার গৌরব আছে, গৌরবজনক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল , সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বৈচিত্র ও ঐশ্বর্য ছিল।ভাষা , সংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে ছিল পৃথিবীর নানান জাতির একটি মিশ্র সংস্কৃতি।আরবীয়, ইংরেজি ও গ্রিক সভ্যতার গড়নে নির্মিত একটি উন্নত নগর। একদা নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত ছিল বর্তমান লক্ষীপুর জেলা।

আজকের লক্ষ্মীপুর জেলা যে ভূ-খন্ড নিয়ে গঠিত ইতিহাসে তার গ্রামীণ অন্তজ্য অতীত অস্তিত্বের খোঁজ সমকালীন ঐতিহাসিকদের জন্য যেন পৃথিবী থেকে ২৫ আলোকবর্ষের দূরত্বের ভেগা নক্ষত্রে দৃষ্টিপাতের ন্যায় অরণ্যে রোদন।

একদা সমতট নামে পরিচিত এই জনপদে পরবর্তীকালে বিশ্বস্বর শুরের হাত ধরে ‘ভুলুয়া’ রাজ্য পত্তনের সময় থেকে এ এলাকা বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দিতে লক্ষ্মীপুর ভুলুয়া রাজ্যের অধীন ছিল। সুলতানি শাসনামলে পরগনা শব্দটির সর্বপ্রথম প্রচলন ঘটে। ফলে পরিবর্তিত হয়ে এর নাম ভুলুয়া পরগণা। ভুলুয়া ছিল বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী অঞ্চল। কে জানে হয়তো এই বন্দরের সাথে ছিল মিশর , লেবানন, জাঞ্জিবার, বসরা, শ্রীলংকা, সুমাত্রা, জাভা প্রভৃতি সমুদ্রবন্দরের সাথে নৌ বাণিজ্য যোগাযোগ । এর স্বপক্ষে শক্ত আলাপও জারি আছে। ভারতীয় উপমহাদেশে একমাত্র প্রকৃত আসমুদ্রহিমাচল অঞ্চল বাংলার অবস্থান গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায়। সমুদ্র পথে মালয় উপদ্বীপ অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় সেরা আরবীয় ঘোড়ার চালান আসত । প্রসঙ্গক্রমে, সেন আমলে নদীয়াতে আরব অশ্ববণিকদের যাতায়াত এতই পরিচিত দৃশ্য ছিল যে, অশ্ববিক্রেতার ছদ্মবেশেই ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনীর একাংশ নদীয়া শহরে প্রবেশ করে ।

এসময় পশ্চিমের মেঘনা নদী পর্যন্ত ভুলুয়া সীমানা বিস্তৃত ছিল। এ হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা ভুলুয়ার অধীন ছিল। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর অঞ্চল নদীর বালুকা নিয়ে গড়ে উঠেছে । এ জেলার অধিকাংশ ভূমি, নদী বা সমুদ্র গর্ভ থেকে ক্রমশ চর বা দ্বীপ হিসেবে জেগে উঠা ।এ জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকার নামে সাথে চর, দ্বী, দি, দিয়া যুক্ত হয়।

চতুর্দশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং দিল্লির সুলতান মুহম্মদ তুঘলকের অধীনতা অস্বীকার করা বাংলার প্রথম সার্বভৌম সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ভুলুয়া জয় করেন। এখানে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানী স্থাপন করেন এবং একজন শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। মেঘনা উপকূলীয় সীমান্ত রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী নৌ-ঘাটি স্থাপন করা হয়।

সপ্তদশ শতাব্দিতে মুঘলরা ভুলুয়া দখল করে। এ নৌ-খাঁটি মুঘল যুগে ‘শহর কসবা’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে যা ছিল পূর্বাঞ্চলে মুঘলদের প্রধান নৌ-ঘাঁটি। বাংলাদেশে এপর্যন্ত সন্ধান পাওয়া মোট ৩৭টি কসবার মধ্যে লক্ষীপুর জেলার শহর কসবা অন্যতম ।


রাজকীয় আমলার পদবী, প্রাদেশিক রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে কসবাকে সুলতানি আমলের একটি উপ-বিভাগীয় প্রশাসন কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হতো।

সপ্তদশ শতাব্দির মধ্য ভাগে সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন ‌। তিনি সম্পর্কে মমতাজ মহলের ভাই ও সম্রাট আলমগীরের মামা। শায়েস্তা খাঁন কর্তৃক সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামে অত্যাচার ও লুণ্ঠনে মত্ত থাকা পর্তুগীজ জলদস্যু ও আরাকানি মগদের বিতাড়নের লক্ষ্যে কর্ণফুলীতে সংঘটিত প্রচণ্ড নৌ-যুদ্ধের ঘটনা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর। এসময় তার ফৌজ চাঁদপুরে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদীর পথ ধরে শহর কসবায় এসে নৌ-বাহিনীর সাথে মিলিত হয়েছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে লক্ষ্মীপুর ছিল লবণ ও বস্ত্র শিল্পে সমৃদ্ধ।  সাহাপুর কুঠি বাড়ি, জকসিন কুঠি বাড়ি ও রায়পুরের উত্তরে সাহেবগঞ্জ কুঠি বাড়ি ও সল্ট হাউজগুলো লবণ ও বস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি নীল চাষে স্থানীয় জনগণকে বাধ্য করতো। মেঘনা নদী, ডাকাতিয়া নদী, রহমতখালী নদী, ভবানীগঞ্জ খাল, ভুলুয়া খাল ও অধিকাংশ ব্যবসা বাণিজ্যে ভূমিকা রাখত। রায়পুর, সোনাপুর,  লক্ষ্মীপুর, দালাল বাজার, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জ ও ফরাশগঞ্জ ছিল জেলার প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। স্বদেশী আন্দোলনের একটা মুহূর্তে মহাত্মা গান্ধী রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান করেছেন। 'বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্যে'র কবির পদরেণু পড়েছে এ ভূখণ্ডে । 

প্রশাসনিক ইতিহাস বিকশিত হয়েছে রূপান্তরের লতায়পাতায়। ঐতিহাসিক নথিপত্র থেকে প্রমাণিত, বন্যা থেকে এখানকার কৃষি-অঞ্চলকে রক্ষার জন্য কুমিল্লার ফৌজদারের তত্ত্বাবধানে ডাকাতিয়া থেকে রামগঞ্জ -সোনাইমুড়ি- চৌমুহনীর মধ্য দিয়ে একটি খাল কেটে বন্যার পানি বঙ্গোপসাগরের মেঘনা ও ফেনী নদীর সঙ্গমস্থলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। খাল খননের পর ভুলুয়ার নতুন নাম হয় ‘নোয়াখালী’ অর্থাৎ নতুন খাল। লক্ষ্মীপুর নামে সর্বপ্রথম থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬০ সালে।১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীপুর মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে তৎকালীন ৫নং বাঞ্চানগর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়। পরে এই পৌরসভাটির বিস্তৃতি ঘটে। রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নিয়ে ১৯৭৯ সালে লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং একই এলাকা নিয়ে ১৯৮৪ সালে গঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলা। মেঘনার মোহনায় অবস্থিত লক্ষ্মীপুর চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা ।সড়কপথ , রেলপথ, নৌ-পথ ও আকাশপথে এ জেলায় ভ্রমণ দুঃসাধ্য নয়।

এ অঞ্চলের সমাজ সংস্কৃতিতে হীরার দ্যুতি ছড়ানো প্রতিভা প্রতিভূদের কাহিনীসূত্র আমাদের কাছে এক গভীর প্রেরণা এগিয়ে যাওয়ার পথে। তাদের পদচ্ছাপ খচিত আছে প্রজন্মের মানসজগতের প্রতিটি ইট-পাথরে। ১২ শতাব্দীর রায়পুরের প্রখ্যাত ধর্ম প্রচারক পীর ফজলুল্লাহ ওরফে বুড়া হুজুর , আধ্যাত্মিক পুরুষ দায়রা বাড়ির হযরত শাহ আজিম ,বেগম রোকেয়ার নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা লেখিকা শামসুন নাহার মাহমুদ , জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ , আশির দশকের সংস্কারপন্থি রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব দেশবরেণ্য ধর্মনেতা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর , স্বাধীনতা উত্তর ঢাবির প্রথম উপাচার্য ড. মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী , ঢাবির সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরী , ঢাবি অধ্যাপক অধ্যাপক কবীর চৌধুরী , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ -উপাচার্য প্রখ্যাত ইতিহাস গবেষক ড. মফিজ উল্লাহ কবীর, সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক মুনীর চৌধুরী , বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন ,স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আ.স.ম আবদুর রব , সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা , সাংবাদিক সানা উল্লাহ নূরী , প্রাক্তন সার্ক মহাসচিব আবুল আহসান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ও দেশের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হামদর্দ এর চেয়ারম্যান ড. ইউসূফ হারুন ভূঁইয়ার মতো আরও বহু প্রখ্যাত প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এ জেলারই কৃতি সন্তান।

বিশ্ব বিশ্রুত ইলিশের উৎপাদনস্থল এবং সোয়াবিন উৎপাদনের স্বর্গরাজ্যের নামও লক্ষ্মীপুর।২০১৬ সালে জেলার ব্র্যান্ড বা নামপরিচয় হিসেবে সয়াবিনকে চিহ্নিত করা হয়। নয়া ধারায় লক্ষ্মীপুর জেলাকে পরিচিত করা হয় ‘সয়াল্যান্ড’ নামে। স্লোগান দেয় ‘নারিকেল, সুপারি আর সয়াবিনে ভরপুর, আমাদের আবাসভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর।’ এছাড়াও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ আমিষের পর্যাপ্ত জোগান সরবরাহ করা হয় এজেলা থেকে। ধান, গম, বাদাম, পাট, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা, আখ ও চীনাবাদাম প্রচুর পরিমাণে এখানে চাষাবাদ হয়ে থাকে। এ এলাকায় খুব পরিচিত ফলের মধ্যে রয়েছে, আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, আমড়া, জাম ও তাল ইত্যাদি। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস শিকারের কাজে নিয়োজিত ।ঘিগজ মুরি এবং মহিষের দই এ এলাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে যুগযুগ ধরে।

জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, শাহ জকি (রা.) মাজার শরীফ, তিতাখাঁ জামে মসজিদ, মজুপুর মটকা মসজিদ, রায়পুর জ্বীনের মসজিদ, রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এশিয়ায় বৃহত্তম), রায়পুর বড় মসজিদ, মান্দারী বাজার বড় জামে মসজিদ ,দালাল বাজার মঠ ও খোয়া সাগর দিঘীর মতো মহু নিদর্শন। এ
জনপদের পিতৃনিবাসী বাংলাভাষী প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের গল্পসঙ্কলন ‘অবেলার দিনক্ষণ’ গ্রন্থের ‘অচেনা’ গল্পের মতোই এর অবিকল গ্রামীণ অন্তজ্য ভাষান্তর যেন নিঃসঙ্গ, বিকলাঙ্গ। লক্ষ্মীপুর ও উন্নয়নের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রস্তাবিত দফা : বহুজাতিক শিল্প গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, নৌবন্দর স্থাপন , এই জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, নদী ভাঙ্গন ও কৃষি পরিবেশ নিয়ে গবেষণা , মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙ্গন রোধে বেড়িবাঁধ , স্লুইসগেট স্থাপন, উপকূলীয় উপজেলা কমলনগর ও রামগতির নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব , ভুক্তভোগীদের পুনরর্থায়ন বা পুনর্বাসন, জেগে ওঠা চরে বসতি স্থাপন নিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি, নদী দখল- দূষণ মুক্ত করে নদী কেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা, ভরাট- দখল-দূষণ ও পলি জমে জমে মৃত এক সময়ের প্রমত্তা ভুলুয়া নদী দখলমুক্ত খনন করতে ত্বরিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কাম্য।

লজ্জায় রক্তিম হওয়ার মতো নেতিবাচক চর্চার লীলাভূমি এ জেলা। প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষায়তনে আইয়ুব শাহীর এম. এস. এফ প্রেতাত্মার অক্টোপাসের থাবা। শিক্ষায়তনে শিক্ষা ছাড়া আর যেন সবই হয় ।

হলফ করে বলা যায় খুব নিকট ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ উজাড় করে দিয়ে ধীরে ধীরে বুদ্ধিবৃত্তিক অধঃপতন ঘনিয়ে আসছে এখানে । সামাজিক সংকট সক্রিয় হবে। সম্ভাবনাময় তরুণরা এখন ক্ষমতাসীনদের ফুটসোলজার। মাদকাসক্তির উপলভ্যতা স্লো পয়জনিং এর মতো ধ্বংস করে দিচ্ছে। ধ্বজভঙ্গ করে দিচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। উঠতি নেতাদের নেই উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক দীক্ষা। নেতৃত্বশৈলি ও বাচনদক্ষতা বকোয়াস । বিদেশ-বিভূঁইয়ে দেশের সুনামের পান্তায় ঘি মাখা মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতে সমষ্টি জীবনে নরকের উৎপাত নেমে আনানো প্রবঞ্চকের জন্মভূমি যখন এ জনপদ, এই জনপদের রাষ্ট্রপতি তো অবক্ষয়ের অতলান্তে ডুব মেরে উপজেলা নির্বাচনে লড়তে হয়েছে ।

জলপ্রপাতের মতো উচ্ছল গতিময় হোক এ নিষ্পলা মাঠের- জনপদের নদীবিধৌত, ইতিহাস-ঐতিহ্য সঞ্চিত, ভূয়োদর্শন-‌সিঞ্চিত , আগামী দিনের ইতিহাসের বাতায়নের ফাঁক দিয়ে আবির্ভূত হন শ্বেত শুভ্র পবিত্র পোশাকের মহাপুরুষ ,নিভু নিভু দেউটি যেন নিভে না যায় চিরজনমের মতো।

লেখক: মাহমুদুল আহসান, ৩য় বর্ষ, সেশন: ২০১৭-১৮

তথ্যসূত্রঃ

১.বাংলাপিডিয়া ।
২. উইকিপিডিয়া।
৩.মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস : লক্ষীপুর জেলা।
৪. বাংলা একাডেমি,  বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা : লক্ষ্মীপুর ।
৫.বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬.বিবিধ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখনী ।

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *