সমকামিতা: যেসব কারনে সমর্থণযোগ্য নয়

ইংরেজি Homosexuality এর বাংলা প্রতিশব্দ সমকামিতা। সাধারণত সমকামিতা বলতে সমলিঙ্গ বা একই লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আচরণ বা যৌন আকর্ষণকে বোঝায় ৷ সমকামিতা এক ধরনের যৌন প্রবৃত্তি যেখানে সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্য ব্যক্তির জেগে ওঠা যৌন আকর্ষণ, স্নেহ কিংবা প্রণয়ের এক স্বাভাবিক স্থায়ী প্রবণতাকে বোঝানো হয় ৷ এছাড়া এর দ্বারা সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ব্যক্তি কিংবা সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও নির্দেশ করা হয় ৷
সহজ বাংলায় সমকামিতা হলো সমলিঙ্গ তথা একটা ছেলের প্রতি আরেকটা ছেলের যৌন আকর্ষণ, যৌন আচরণ এবং একটা মেয়ের প্রতি আরেকটা মেয়ের যৌন আচরণ, যৌনক্রিয়া ।
পুরুষ ও মহিলা সমকামীদের বোঝাতে আলাদা দুটি শব্দের প্রয়োগ দেখা যায় ৷ পুরুষ সমকামীদের গে এবং নারী সমকামীদের লেসবিয়ান বলা হয় । তবে পুরুষ ও মহিলা উভয় সমকামীদের বোঝাতে অনেক সময় গে শব্দটি ব্যবহার করা হয় ।
১৮৬৯ সালে ইংরেজিতে ‘হোমোসেক্সুয়াল’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কার্ল মারিয়া কার্টেবেরি। পরবর্তীতে ১৮৮০’র দশকে জীববিজ্ঞানী গুস্তব জেগার এবং রিচার্ড ফ্রেইহার ভন ক্রাফট ইবিং তাদের লেখায় শব্দটির ব্যবহার করেন ৷ তখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষায়তন এবং জনসাধারণের মাঝে শব্দটির প্রয়োগ শুরু হয় । হোমোসেক্সুয়াল শব্দটি বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও একাডেমিক আলোচনায় বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় ৷ কিন্তু সমকামী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমেে ‘গে ‘ এবং ‘লেসবিয়ান’ শব্দ দুটির প্রয়োগ বেশি দেখা যায় ।
১৯২০ সালে যখন ‘গে’ শব্দটির প্রথম ব্যবহার শুরু হয় তখন এটি শুধুমাত্র সমকামীরা নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যবহার করতো । ১৯৪৭ সালে প্রিন্ট মিডিয়ায় গে শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় । ‘Vice Versa: America’s Gayest Magazine’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশের সময় লিসা বেন নামে একজন গে শব্দটি ব্যবহার করেন সমকামিতার প্রতিশব্দ হিসেবে । আর গ্রিস দেশের ‘লেসবো ‘ নামের দ্বীপ থেকে লেসবিয়ান শব্দটি এসেছে । শুরুর দিকে লেসবিয়ান শব্দটি দ্বারা শুধু ‘লেসবো ‘ দ্বীপের অধিবাসীদের বোঝানো হতো কিন্তু পরবর্তীতে নারী সমকামীদের বোঝাতে এটির ব্যবহার শুরু হয় ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী সমকামিতার পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে । ফলে বাংলাদেশের মধ্যেও এই আলোচনার প্রভাব পড়েছে। দেশের প্রগতিশীল অংশ সমকামিতার পক্ষে নানা যুক্তি তুল ধরছে । অন্যদিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ অনেক মানুষ সমকামিতার বিরোধিতা করছে। কখনো কখনো এই আলোচনা সমালোচনা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে ।


বাংলাদেশের আইনে সমকামিতা ও পায়ুসঙ্গম শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ । এই অপরাধের শাস্তি দশ বছর থেকে শুরু আজীবন কারাদণ্ড এবং সাথে অর্থ জরিমানার করারও বিধান রয়েছে ।


এদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। স্বাভাবিকভাবে না চাইলেও এখানে ধর্মের প্রভাব বিভিন্নভাবে রয়ে গেছে । ইসলাম ধর্মে সমকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটিকে ব্যভিচারের চেয়েও জগন্য অন্যায় হিসেবে দেখা হয় ৷
আমি মূলত এই লেখায় দেশীয় আইন এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের বাহিরে গিয়ে সমকামিতার সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয় যেমন, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মানসিক ক্ষতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবো ।
মানুষের যৌন প্রবৃত্তিতে নানারকম পার্থক্য দেখা যায়। তবে একজন ব্যক্তি কী করণে বিপরীতকামী, সমকামী, বিষমকামী অথবা উভকামী হয় তা বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি । গবেষকরা বলছেন, মানুষের যৌন প্রবৃত্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
সাধারণত জন্মের পর থেকেই মানুষের যৌন প্রবৃত্তি বোঝা যায় না । তাই সমকামিতার মতো বিষয়গুলাও ব্যক্তির বয়সের সাথে সাথে পরিবেশগত অবস্থানের উপর নির্ভর করে ৷ একজন ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন কারনে সমকামিতার বিকাশ ঘটতে পারে ৷ যেমন:- অল্পবয়সে কারো সাথে সমকামের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, পিতামাতার মধ্যে খারাপ সম্পর্ক, সমকামীদের সাথে ঘনিষ্ঠতা, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন, সমকামী ও উভকামী পর্নোগ্রাফিক ম্যাটারিয়াল দেখা, সমকামী বন্ধু বান্ধবের সাথে সখ্যতা, পিয়ার গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ, সুস্থ ও বিজ্ঞানসম্মত যৌন শিক্ষা সম্পর্কে ভালো করে না জানা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, সমকামিতার ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও মানসিক ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞতা ইত্যাদি কারনে কোনো ব্যক্তির মধ্যে সমকামিতার বিকাশ ঘটতে পারে ৷

সমকামিতায় যেসব রোগ ছড়ায় :-
সমকামিতায় জড়িত থাকার কারনে সমকামীদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে ৷ সমকামিতায় প্রায় ৯০% এর বেশি সময় অ্যানাল সেক্স করা হয়। যা মলাশয় বা পায়ুপথ দিয়ে করা হয়ে থাকে । আর যৌনসঙ্গম এর জন্য মলাশয়কে ব্যবহার করা হলে তাতে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে ৷ কেননা পুরুষের লিঙ্গ মলাশয়ে ঢুকানো হলে সহজেই সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং মলাশয়ের ক্ষত’র মধ্য দিয়ে বীর্য সহজেই ব্লাডস্ট্রিমে ঢুকে পড়ে ।
এইডস
সমকামিতা বা সমকামী যৌন সম্পর্ককে এইডস রোগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন ২০০৬ সালে সমকামীদের উপর একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ২% সমকামী এবং এইচআইভি সংক্রমিত নতুন রোগীর মধ্যে ৫৩% শতাংশ সমকামী। ২০০৩ সালে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে ৬৩% ছিল সমকামী।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনের ১৯৯৮ সালের প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে ৫৪% হলো সমকামী এবং এইডসে আক্রান্ত ৯০% ব্যক্তি সমকামী যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে এইডসে আক্রান্ত হয়েছে ।
ডঃ ক্লুজনার, রবার্ট কোহন, চার্লোট কেন্ট ২০০৪ সালের প্রকাশিত ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালে মতামত দেন যে, সিফিলিস, গনোরিয়া, সাইটোমেগালো ভাইরাস সংক্রমণ, ক্ল্যামিডিয়া, হার্পিস, লিম্ফোগ্র্যানুলোমা ভেনেরাম ও এমিবিয়াসিস সমকামীদের মধ্যে অনেক বেশি থাকে। এছাড়া প্রোকটাইটিস নামক একটি রোগ দেখা যায় যার অন্যতম কারন এই রোগগুলো ৷ গবেষকরা আরো বলেন, এইডস হওয়ার সাথে গে-বাওয়েল সিন্ড্রোম এবং প্রোকটাইটিস রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে ৷
এছাড়া হুভারের স্ট্যাটিস্টিক্যাল স্টাডির ফলাফলে দেখা যায়, ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ৫০% সম্ভাবনা থাকে একজন ২০ বছর বয়সী সমাকামী কিশোরের । ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সমকামী ও উভকামীদের প্রত্যেক ৫ জন ব্যক্তির মধ্যে ১ জন এইডসে আক্রান্ত এবং এর মধ্য ৫০ ভাগ মানুষ জানে না যে তারা এইডস রোগে আক্রান্ত ।
ওয়েবএমডি একটি নামকরা মেডিকেল সাইট। ২০০৪ সালে এই সাইট থেকে দাবী করা হয়, নারীর দেহে এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সমকামী ও উভকামী পুরুষ উল্লেখযোগ্য সেতুবন্ধনকারী হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ২০০৬ সালে দেখা যায় শিশুদের মধ্যে যারা এইচআইভি এইডস আক্রান্ত তাদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক শিশু যৌনসহিংসতার শিকার হয়েছে সমকামী ব্যক্তি দ্বারা ।

সিফিলিস
এইডস এর সাথে সিফিলিস এর মত রোগ ছড়াতেও সমকামিতা ব্যাপকভাবে দায়ী । ২০০৮ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ভাগ বেড়ে যায় । যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সমকামিতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এ ২০০৮ সালে সিফিলিস সংক্রমণের ১৫৯ টি কেস পাওয়া যায় । ১৫৯ টি কেস এর মধ্যে ১৫৪টিই পুরুষের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এর মধ্যে ১৩৪ জনই স্বীকার করে যে তারা আরেকজন পুরুষের সাথে সমকামিতায় লিপ্ত ছিল।
প্রোসিডিং অব দ্য রয়াল সোসাইটি অব মেডিসিনে ১৯৬২ সালে বিভিন্ন যৌনরোগের আধার হিসেবে সমকামিতাকে বিবেচনা করা হয় এবং সমকামিতার সঙ্গে সিফিলিস সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন (সিডিসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সাইবারকাস্ট নিউজ সার্ভিস জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৭ সালে ১২০০০ সিফিলিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ৬৫% হলো সমকামী। যা সিফিলিসের বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রাইমারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেখানে ১০ বছর আগে সিফিলিস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি(পাবলিক হেলথ থ্রেট) হিসেবে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো, তা নতুন করে ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছরে আবারো বৃদ্ধি পাচ্ছে । এইডস সংক্রমণের হারের চেয়ে সমকামীদের মধ্যে সিফিলিস সংক্রমণের হার বেশি এবং ২০০৩ সালে সমকামীদের মধ্যে সিফিলিস সংক্রমণের এই হার এপিডেমিক (মহামারী) পর্যায়ের বলে জানা যায় । যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে সমকামী ব্যক্তিদের মধ্যে সিফিলিস সংক্রমণ এপিডেমিক পর্যায়ের ছিল।
ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল এ বলা হয়, ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে পুরুষ সমকামীদের মধ্যে সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হারে (১৭২ থেকে ৩৭২) বেড়েছে এবং ৫৩% হারে নারী সমকামীদের মধ্যে সিফিলিস সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে । জার্নাল থেকে আরো বলা হয় যে, ইংল্যান্ডে ২০০০ সালে মোট সিফিলিস আক্রান্তের মধ্যে ৪৮% ই আক্রান্ত হয়েছে সমকামিতা থেকে ।

ক্যান্সার
সমকামীদের অধিকাংশ মূলত পায়ুপথ দিয়ে সেক্স করে। আর পায়ুপথ দিয়ে সেক্স করাকে অ্যানাল সেক্স বলা হয়৷ অ্যানাল সেক্স করার সময় খুব সহজেই নানারকম ক্ষত সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে আর ক্ষত থেকে রক্ত বের হওয়া স্বাভাবিক । এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের জন্য অ্যানাল রুট সবচেয়ে সহজ রুট বলে পরিচিত। যার ফলে সমাকামীদের মধ্যে অ্যানাল ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে৷
২০০৪ সালের জুন মাসে নার্সিং ক্লিনিক অব নর্থ আমেরিকার জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট বলা হয়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসজাত অ্যানাল ক্যান্সারের ঝুঁকি সমকামীদের মধ্যে ১০ গুণ বেশি বিষমকামীদের তুলনায় । এমনকি এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যানাল ক্যান্সার হওয়ার এই ঝুঁকি বিষমকামীদের তুলনায় সমকামীদের মধ্যে ২০ গুণ বেশি ।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন (সিডিসি) কর্তৃক পরিচালিত পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায়, বিষমকামী অপেক্ষা সমকামীদের ক্ষেত্রে ফ্লুরোকুইনোলন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স ৮ গুণ বেশি থাকে। সমকামী সম্পর্কে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশি রেজিস্টেন্সির কারণে ২০০৪ সালে উক্ত (ফ্লোরোকুইনোলন) অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। তবে এই চিত্রের ভিন্নতা দেখা যায় বিষমকামীদের ক্ষেত্রে । কিছু প্রদেশ ব্যতিত এই রেজিস্টেন্স মাত্র ১.৩% বিষমকামীদের ক্ষেত্রে।
২০০৬ সালে আমেরিকান এসোসিয়েশন অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গনোকক্কাল সংক্রমণে সানফ্রান্সিসকো সবচেয়ে এগিয়ে। আমেরিকার মোট গনোকক্কাল সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি রয়েছে শুধু সানফ্রান্সিসকোতে এবং সমকামীদের মধ্য গনোকক্কাল সংক্রমণের এই হার বিষমকামীদের থেকে সমকামীদের মধ্যে ১৫.৩% পর্যন্ত বেশি ।
কানাডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল এ প্রকাশিত ১৯৯১ এর রিপোর্টে বলা হয়,গনোকক্কাল সংক্রমণের হার বিষমকামী অপেক্ষা সমকামীদের মধ্যে ৩.৭% বেশি ।
হার্পিস
সমাকামীদের মধ্যে যেসব রোগ দেখা যায় তার মধ্যে হিউম্যান হার্পিস ভাইরাস ৮ ( এইচএইচভি-৮) অন্যতম । এই রোগটি শুধুমাত্র সমকামে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই পাওয়া যায় ৷ সমকামীদের মধ্যে যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত তাদের অনেকেই এই ভাইরাসজাত (হিউম্যান হার্পিস ভাইরাস ৮) কাপোসি সারকোমা নামে একটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় । যা বিষমকামীদের মধ্যে একদমই পাওয়া যায় না।
নিউ ইংল্যান্ড মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি স্টাডি থেকে বলা হয়, গত ৫ বছরে এই ভাইরাসে (হিউম্যান হার্পিস ভাইরাস ৮) আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮% ছিল সমকামী এবং বাকীরা উভকামী সম্পর্কে জড়িত ছিল কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বিষমকামী একজনও পাওয়া যায়নি। নিউ ইংল্যান্ড মেডিসিন জার্নালের এই স্টাডি থেকে আরো একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এইচআইভি-৮ ও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৫০% ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে এইচআইভি-৮ ও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৫০% ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে।

ইংল্যান্ড মেডিসিন জার্নাল

সমকামিতায় ফিস্টিং ও বিভিন্ন রোগ
সমকামিতায় সঙ্গমের সময় মলাশয় ছিদ্র দিয়ে হাত বা হাতের আঙ্গুল মলাশয়ের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে একধরনের যৌন অনুভূতি, আনন্দের উদ্রেক ঘটানো হয়। এটিকে ফিস্টিং বলা হয় । সমকামে ফিস্টিং করাটা অ্যানাল সেক্সের চেয়েও ক্ষতিকর । ফিস্টিং করার ফলে মলাশয়ের মাসল ছিঁড়ে যেতে পারে, ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে, মলাশয়ের স্ফিংকটার কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে । এছাড়া মলাশয়ে ব্যাথা, ইনফেকশন, ও প্রদাহ হওয়ার ক্ষেত্রে ফিস্টিং বেশি দায়ী।
একটি গবেষণা সার্ভেতে দেখা যায় যে, সমকামী জনগোষ্ঠীর ২২% সমকামে ফিস্টিং করে । সমকামী পুরুষদের উপর করা একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে উত্তরদাতাদের মধ্যে ১৬% সমকামে ফিস্টিং করে এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি প্রদেশের ৮% উত্তরদাতা জানিয়েছে তারা সমকামে ফিস্টিং করেছে।
এইচআইভিতে সংক্রমিত সমকামী পুরুষদের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো ফিস্টিং।

অন্যান্য
** সমকামিতায় হেপাটাইটিস বি তে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রকট। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন ১৯৮৮ সালে একটি সার্ভে করে। সার্ভেতে দেখা যায়, সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২১% হেপাটাইটিস বি তে সংক্রমিত হয়েছে ৷ ডঃ ভিনসেন্ট সোরিয়ানোর Advances in the Management of Viral Hepatitis B and Hepatitis C Infection in HIV-Coinfected Patients শীর্ষক গবেষণা আর্টিকেলে দেখা যায়, সমকামী যৌন সম্পর্কের সাথে হেপাটাইটিস সি সংক্রমনের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
** ২০০১-২০০৯ পর্যন্ত সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সমকামীদের মধ্যে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ চিহ্নিত করেন সাংবাদিক পিটার লাবারবারা। এই ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্বভাবের মধ্যে একটি হলো ওবেসিটি বা স্থূলত্ব । ২০০২ -২০০৭ সাল পর্যন্ত সময়ের উপর ফ্যামিলি গ্রোথ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সার্ভে পরিচালনা করে আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ । ২০০৭ সালে করা এই সার্ভে রিপোর্টে দেখা যায়, সাধারণ বিষমকামীদের চেয়ে নারী সমকামীদের মধ্যে স্থূলত্ব বা ওবেসিটির পরিমাণ ২.৬৯ গুণ বেশি এবং অন্য সকল যৌন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নারীদের চেয়ে স্থূলত্ব ২.৪৭ গুণ বেশি ৷
** শিগেলোসিস একধরণের যৌনবাহিত রোগ ৷ ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালে ২০০৭ সালের রিপোর্টে বলা হয়, শিগেলা সম্ভবত যৌনবাহিত একটি রোগ এবং শিগেলা সংক্রমণের মাত্রা সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক বেশি ৷ ২০০৭ সালের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওরাল-অ্যানাল রুট শিগেলা সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সমকামীদের মধ্যে এটি সংক্রমণের মাত্রা অত্যধিক ৷
এছাড়া সমকামীদের মধ্যে হুক ওর্ম, অ্যানাল ফিশার, হেমোরয়েড (পাইলস), স্ক্যাবিস, অ্যানোরেকটাল ট্রমা, মেনিনজাইটিস, পেডিকুলোসিস, সালমোনেলোসিস ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি ।
অসু্স্থ ও বেপরোয়া যৌন আচরণ:-
সমকামিতায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে লাগামহীন ও বেপরোয়া যৌন আচরণের প্রবণতা অনেক বেশি । ‘এইডস এট ২০’ নামক একটি ফিচার প্রতিবেদন যেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয় । প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষমাকামীদের চেয়ে সমকামী জনগোষ্ঠীরা তুলনামূলকভাবে বেশি যোনতাড়িত ও অতিরিক্ত যৌন আবেগ সম্পন্ন হয়ে থাকে । ফলে তাদের অধিকাংশই ভালো মন্দ চিন্তা না করে পূর্ব সচেতনতা ছাড়াই কনডমবিহীন অবাধ যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হয় এবং লিপ্ত ব্যক্তিদের কেউ এউডস রোগে আক্রান্ত হলে তা সংক্রমিত হয় অন্যজনের মধ্যে । প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সমকামী জনগোষ্ঠীর অনেকের ভয়ংকর চিন্তাভাবনা থাকে। এমনকি সমকামীদের মধ্যে একজন থেকে অন্যজনে এইডস সংক্রমিত করার ক্ষেত্রে কোনো অনুতাপ দেখা যায়নি ।
১৯৭৮ সালের একটি গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, আমেরিকার ৭৫% শ্বেতাঙ্গ পুরুষের সমকামী সঙ্গী রয়েছে ১০০ র অধিক, ১০০-২৪৯ জন সমকামী সঙ্গী রয়েছে ১৫% পুরুষের, , ১৭% পুরুষের সমকামী সঙ্গী রয়েছে ২৫০-৪৯৯ জন, ৫০০-৯৯৯ জন সমকামী সঙ্গী রয়েছে ১৫% পুরুষের এবং ২৮% পুরুষের ১০০০+ জন সমকামী সঙ্গী রয়েছে । সমকামীতার সাথে এইডস ও অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর সম্পর্ক আছে জানার পর সমকামীদের এই বেপরোয়া যৌন আচরণের পরিমাণ কিছুটা হলেও হ্রাস পায় কিন্তু কিছু এসোসিয়েশনের ভুল প্রচারের কারণে এই সচেতনতা আবার হ্রাস পেতে শুরু করেছে।
১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কোনো ক্ষতি কিংবা সমস্যা নিয়ে সমকামী ব্যক্তিদের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই এবং উন্নাসিকতার পরিমাণ তাদের মধ্যে অনেক বেশি। গবেষণায় আরো বলা হয়, কনডমবিহীন এই বেপরোয়া ও অসতর্ক যৌন আচরণের পরিমাণ গত ১০ বছরের আগে পরে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ।
সমকামীদের গড় আয়ু কম:-
ড. পল ক্যামেরুন পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিক্যাল জার্নাল, ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল, কানাডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল এর সম্পাদনা করে থাকেন । সমকামিতার উপর ড. পল প্রায় ৪০ টার মতো গবেষণা আর্টিকেল লিখেছেন । ড: পল ক্যামেরুন ইস্টার্ণ সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত তার “Federal distortion of the homosexual footprint” গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, পুরুষ ও মেয়ের বিবাহসম্পর্ক অর্থ্যাৎ বিষমকাম মানুষের আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয় কিন্তু সমকামে গড় আয়ু কমে যায় । সমকামিদের ক্ষেত্রে গড় আয়ুষ্কাল ২৪ বছর কম ।
১৯৯০ থেকে ২০০২ সাল এই ১২ বছরের মধ্যে ডেনমার্কে স্বাভাবিক যৌনাচারীর (বিষকামীর) ৭৪ বছর গড় আয়ু পাওয়া গেছে । একই সময়ে সেখানে ৫৬১ গে (সমকামী) পার্টনার এর গড় আয়ু পাওয়া গেছে মাত্র ৫১ বছর । নারী সমকামীদের ক্ষেত্রেও গড় আয়ুর এই হার প্রায় ২০ বছর কম।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের একটি এপিডেমিওলজিকাল স্টাডির প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত এইডস এ আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল সমকামী ও উভকামীরা এবং এদের গড় আয়ু কমেছে প্রায় ২০ বছর (প্রকৃত চিত্র এর চেয়েও বেশি) । স্টাডিতে আরো বলা হয় যে, সমকামী ও উভকামীরা জনসংখ্যার ৩% হলে একজন ২০ বছর বয়স্ক সমকামী/উভকামী কিশোরের মাত্র ৩২% সম্ভাবনা রয়েছে ৬৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার, বিষমকামীদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার এই হার ৭৮% । গড় আয়ু কমে যাওয়ার এই বিষয়ের সাথে এইচআইভি এইডস এর ১৫-২০% আনরিপোর্টেড কেস যোগ করা হলে সমকামী ও উভকামীদের গড় আয়ু হ্রাস ২০ বছরেরও বেশি দাঁড়ায়। অন্যদিকে যৌনরোগজনিত মৃত্যু এবং আত্মহত্যার মতো বিষয় এতে সংযোজন করা হলে এটাই প্রমাণিত হয় যে, সমকামীদের গড় আয়ু বিষমকামীদের চেয়ে অনেক কম। আর এসব কারণে স্টাডিতে উল্লেখিত সমকামীদের গড় আয়ু হ্রাস প্রকৃতপক্ষে ২০ বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
দূর্বল মানসিক শক্তি, আত্মহত্যার প্রবণতা ও মাদকাসক্তির হার বেশি :-
সমকামিতায় জড়িত ব্যক্তিরা বিষমকামীদের চেয়ে তুলনামূলক দূর্বল মানসিক শক্তি সম্পন্ন হয়ে থাকে বলে গবেষণায় দেখা গেছে ৷ সমকামীদের মধ্যে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা যেমন, ড্রাগ অ্যাবিউজ, হতাশা, আত্মহত্যার প্রবণতা এসব অনেক বেশি । আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের জেনারেল সাইকিয়াট্রি আর্কাইভ ২০০০ ইস্যু থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, সমকামিতার সাথে আত্মহত্যা, মানসিক ও আবেগিক সমস্যাগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে ৷
পিয়েরে ট্রেম্বলে ও ক্রিস বাগল নামক দুজন গবেষকের গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়,আত্মহত্যার হার বিষমকামীদের চেয়ে সমকামে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ২ গুণ বেশি এবং সর্বোচ্চ ১৩.৯ গুণ বেশি ।
১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে সমকামিতার সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয়ে একটি স্টাডি করা হয় । গবেষকরা স্টাডিতে অ্যানাল সেক্স এবং ড্রাগ ব্যবহারের মধ্যে নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন । আর বিষমকামীদের চেয়ে সমকামিতার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যপানকারী ও ধূমপায়ীর হার তুলনামূলক বেশি ৷ সমকামীদের মধ্যে বিষমকামীদের চেয়ে ধূমপায়ীর হার ১.৩ – ৩ গুণ বেশি এবং মধ্যপানকারীর হার ১.৪ -৭ গুণ বেশি । এছাড়া এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন শহরগুলোতে নারী সমকামীদের মধ্যে ধূমপায়ী ৭৮% ৷ ড্রাগ অ্যাবিউজের হার বিষমকামীদের চেয়ে সমকামীদের মধ্যে কমপক্ষে ১.৬ গুণ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ গুণ বেশি৷ এছাড়া বিষমকামীদের চেয়ে সমকামীদের মধ্যে বিষন্নতার হার কমপক্ষে ১.৮ থেকে ৩ গুণ বেশি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গে সার্কিট পার্টি একটি কমন ব্যাপার। গে সার্কিট পার্টির উপর পরিচালিত একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্টিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭% পূর্ব থেকেই এইডসে আক্রান্ত ছিলো, ১০% মানুষ পার্টিতে অংশ নিয়ে এইডসে আক্রান্ত হয়েছে , ওরাল বা অ্যানাল সেক্স করেছে ২/৩ অংশ ব্যক্তি এবং কনডম ছাড়াই সেক্স করেছে ২৮% , ৫৭% অংশগ্রহণকারী সাইকোএকটিভ ড্রাগ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে এবং এর আগে বিভিন্ন গে-পার্টিতে ড্রাগ ব্যবহার করেছে ৯৫% ।
বিশ্বের যেসব দেশ সমকামিতা বিষয়ে খুব উদার নেদারল্যান্ড তার মধ্যে অন্যতম ৷ নেদারল্যান্ডের জেনারেল সাইকিয়াট্রি আর্কাইভের রিপোর্ট থেকে জানা যায় , নেদারল্যান্ডের সমকামী জনগোষ্ঠীর মানসিক সমস্যা বিষমকামীদের তুলনায় অনেক বেশি। রিপোর্টে দেখা যায় , সমকামীদের মধ্যে প্যানিক ডিজঅর্ডার, অ্যাগোরাফোবিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, মেজর ডিপ্রেশন, এবং অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারের মতো বিষয়গুলো বিষমকামীদের চেয়ে সমাকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক বেশি । এছাড়া সোশ্যাল ফোবিয়া, মেজর ডিপ্রেশন ও অ্যালকোহল এবিউজের মতো ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে নারী সমকামীদের মধ্যে অনেক বেশি পাওয়া যায় ৷

নারী সমকামিতা বা লেসবিয়ানিজম:-
নারীদের মধ্যে যারা সমকামী সম্পর্কে জড়িত থাকে তাদের সাধারণত লেসবিয়ান বলা হয় ৷ আর নারী সমকামিতা বিষয়টাকে বলা হয় লেসবিয়ানিজম৷
পুরুষ সমকামীদের মতো নারী সমকামীদের মধ্যেও নারী বিষমকামীদের চেয়ে বিভিন্ন যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি । তবে পুরুষ সমকামিতার মতো বেশি পরিমাণে নারী সমকামিতা নিয়ে তথ্য পাওয়া যায় না । এছাড়া লেসবিয়ানদের সংখ্যা হোমোসেক্সুয়ালদের চেয়ে কম এবং নারী সমকামিতার উপরে গবেষণাও তুলনামূলক কম হয়েছে । অন্যদিকে প্রকৃত লেসবিয়ানদের চিহ্নিত করাও কঠিন। অস্ট্রেলিয়ার একটা গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, নারী সমকামীদের মধ্যে ৯৩% হলো উভকামী।
সমকামী আচরণের স্বাস্থগত পরিণতিগুলো নারী সমকামীদের ক্ষেত্রে পুরুষ সমকামীদের তুলনায় খুব অল্প পরিমাণে গবেষণা করা হয়েছে ৷ নারী সমকামীদের স্বাস্থগত ঝুঁকির বিষয়গুলা অধ্যয়ন করতে একটি বড় অসুবিধা হলো, অধিকাংশ নারী সমকামী একাধিক পুরুষের সাথে যৌনসঙ্গম করে । ফলে প্রকৃত নারী সামকামী কারা এবং শুধু লেসবিয়ানিজমের কারণে যৌনরোগ বৃদ্ধি পেয়েছে নাকি পায়নি সেটি নিরূপণ করা কঠিন।
অস্ট্রেলিয়ান এসটিডি ক্লিনিকের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে, নারী সমকামীদের মধ্যে মাত্র ৭% ছিল এমন যারা কখনো কোনো পুরুষের সাথে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হয়নি ।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, নারী সমকামীদের মধ্যে হোমোসেক্সুয়াল/ উভকামী / আইভি ড্রাগ অ্যাবিউজার পুরুষের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করার হার বিষমকামী নারীদের তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি । এছাড়া এইডসে আক্রান্ত হওয়ার হাই রিস্ক ফ্যাক্টর কর্মকান্ডের সাথে নারী সমকামীদের জড়িত থাকার প্রবণতা বেশি যেমন:- ড্রাগ অ্যাবিউজার, পতিতাবৃত্তি, উভকামী সাধারণ ও ইন্ট্রাভেনাস ড্রাগ অ্যাবিউজার পুরুষদের সঙ্গে নারী সমকামীদের যৌনসঙ্গম ।
সমকামীদের উপর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা রিপোর্টে দেখা যায় , সমকামী নারীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা যেমন:- মাদকাসক্তি, উদ্বিগ্নতা, বিষণ্নতা, ফোবিয়া বা ভীতি, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি বিষমকামী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ এবং উভকামী নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা তিন গুণেরও বেশি।
ড. জন ডিগস এর’ The Health Risks of Gay’ sex’ গবেষণায় দেখা যায় যে, অতিমাত্রায় ধূমপান, হেপাটাইটিস বি ও সি, এলকোহল অ্যাবিউজ, ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস, পতিতাবৃত্তি, ইন্ট্রাভেনাস ড্রাগ অ্যাবিউজের মাত্রা বিষমকামী নারীদের তুলনায় নারী সমকামীদের মধ্যে অনেক বেশি ৷ বিষমকামী নারীদের তুলনায় নারী সমকামীদের মধ্যে ড্রাগ অ্যাবিউজের মাত্রা ৬ গুণ বেশি ৷ গবেষণায় বলা হয়, গত ১ বছরে যেসব নারী সমকামিতায় জড়িত ছিলো তাদের মধ্যে ৩০% পরবর্তী ১ বছরের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিসে আক্রান্ত হয়েছে । উল্লেখ্য জেনিটাল ওয়ার্ট, পেলভিক ইনফ্ল্যামাটরি ডিজিজ, ক্ল্যামাইডিয়া, হার্পিস, ক্র্যাবস সহ বিভিন্ন যৌনরোগের হাই রিস্ক ফ্যাক্টর এই ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস।

উপরের তথ্যবহুল আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, সমকামিতা বিষয়টা শুধু যৌন সঙ্গমের সাথে জড়িত নয় ৷ এটির সাথে অসুস্থ যৌন জীবন, এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়ার মতো বিভিন্ন রোগ, মানসিক সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত মাদক সেবন, আত্মহত্যার প্রবণতার মতো বিষয়গুলো জড়িত। ফলে স্বাভাবিকভাবে দেখা যাচ্ছে সমকামিতা শুধু যৌনসঙ্গমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং একটু বৃহৎ পরিসরে চিন্তা করলে দেখা যাবে সমকামিতার ক্ষতিকর দিকগুলোই বেশি৷ আর এই ক্ষতিটা শুধু একজন ব্যক্তির নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং এটা অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ।

বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বলছে সমকামীদের যৌন সঙ্গী স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে । যার কারনে এইডস, সিফিলিস এর মতো রোগগুলা খুব দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়। ফলে সমকামীদের একটা বড় অংশে এসব রোগের উপস্থিতি দেখা যায় । যা সমাজে বিরূপ প্রভাবে ফেলে।
সমকামিতাকে প্রচার করতে মানবাধিকারের কথা সবচেয়ে বেশি বলা হয় । মানবাধিকার বলতে সাধারণত এমন অধিকারকে বোঝানো হয় যেগুলো মানুষের জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত । যেসব অধিকার মানুষ চর্চা করবে, অন্যকে চর্চা করতে দিবে। তবে এই মানবাধিকারের অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট ।


স্বাধীনতা ততক্ষণ পর্যন্তই স্বাধীনতা যতক্ষণ না সেটি কারো কিছুতে হস্তক্ষেপ করে, ক্ষতি করে। তেমনি মানুষের জীবনের সাথে জড়িত এমন কোনো বিষয়কে মানবাধিকার বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক নয় যা পরবর্তীতে বৃহৎ কিংবা ক্ষুদ্র পরিসরে মানুষের ক্ষতি করে । সমকামিতা তেমনই একটি বিষয় যার শেষ অংশে মানুষেরই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।


তাছাড়া মানবাধিকার বা মানবতার নামে এমন সব বিষয়কে ছাড়পত্র বা বৈধতা দেওয়া যাবে যেসব বিষয়ের সাথে ক্ষতিকর কিছু জড়িত নয়। যেমন, পোশাক পরার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম চর্চার অধিকার ইত্যাদি। আর মানবাধিকার মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়। স্বাধীনতার মতো অন্যের ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত এটি চর্চা বা পালন করা যাবে। তাই সমকামিতার মতো একটা বিষয়কে শুধু মানবাধিকারের নামে সমর্থন করতে আরেকবার ভাবা প্রয়োজন।

‘গে জিন’ আদৌ আছে?
সমকামিতার আলোচনায় অন্য যে বিষয়টিকে বেশি করে সামনে আনা হয় তা হলো ‘গে জিন ‘। গে জিনের অস্তিত্ব আছে বলে প্রমাণ করার চেষ্টা হয় যে সমকামিতা একটি জিনগত বিষয়৷
কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা যায় ‘গে জিন’ বলতে কিছু নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও আরো কিছু সংস্থার অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এই গবেষণায় ৫০ লাখ নারী ও পুরুষের উপর পর্যবেক্ষণ করা হয় । গবেষকরা সমকামী বা ‘গে জিন’ বলতে কিছু নেই বলে মত দেন ৷ এতে গবেষকরা সমকামী নারী ও পুরুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যে অনেক পার্থক্য খুঁজে পান ৷
গবেষনার ফলাফলে বলা হয়, সমকামিতার ক্ষেত্রে জিন সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করে না বরং এতে ব্যক্তির সামাজিক অথবা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা পালন করে । সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তিগত ও মানসিক কিছু সংকট উঠে আসে এতে ৷ সমকামিতার ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ, অবসাদের মতো বিষয়গুলোও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে ৷ গবেষণায় আরো বলা হয়, কোনো মানুষের যৌন আচরণ জিন দ্বারা বোঝা প্রায় অসম্ভব।
এই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশের সময় এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার) সম্প্রদায়ের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন । গবেষণার ফলাফল তাদের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত এবং তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই বিষয়ে ।
এদিকে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল, ফিনল্যান্ডের মলিকিউলার মেডিসিন, এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের জিনতত্ত্ববিদরাও বলেছেন যে , সমকামিমতার সাথে জিনের কোনো সম্পর্ক নেই। ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষা ও তার ফলাফলে চাঞ্চল্যকর কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি । তাদের গবেষণায় আরো বলা হয়েছে যে, স্বভাবজাত কারণে ৮ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ সমকামী হয়ে থাকে ৷
আন্দ্রে গান্না ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অ্যানালিটিক্যাল ও ট্রান্সলেশনাল জেনেটিক ইউনিটের গবেষক । তিনি জানিয়েছেন , এতদিন ধরে যে জিনকে সমকামী জিন বলা হয়েছে সেটি ১০০ গুণ বেশি বড় তার নির্ধারিত মাপের চেয়ে এবং অনেকগুলো ছোট ছোট জিনের সমষ্টি ।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে সমকামিতা একটি জিনগত বিষয় বলে যে ‘গে জিন’ এর কথা বলা হত তার অস্তিত্ব আছে কিনা সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষকরা । বরং গবেষকরা জিন দ্বারা কারো যৌন আচরণ বোঝা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন।

** সমকামিতা বিষয়টাকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক দাবী করতে আরেকটা যুক্তি দেখা যায় তা হলো প্রানীদের মধ্যে সমকামিতার উপস্থিতি । এ বিষয়টারও তেমন যৌক্তিকতা নেই কেননা পশু পাখির মধ্যে এমন আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মানুষের মধ্যে নেই ৷ বিভিন্ন প্রানীর মধ্যে নিজের মলমূত্র, বিষ্ঠা ইত্যাদি নিজেদের খেতে দেখা যায় ৷
এছাড়া পশুর মধ্যে জোর করে সেক্স করার একটা প্রবণতা দেখা যায় । রাস্তাঘাটে চলাফেরায় অনেক সময় দেখা যায় মোরগ মুরগীর সাথে জোর করে সঙ্গম করছে, কুকুর জোর করে যৌন সঙ্গম করছে যা মানুষের জন্য স্বাভাবিক নয় । বরং মানব সমাজে জোর করে সেক্স করাকে ‘ধর্ষন’ বলা হয় যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ । তাই প্রানীর মধ্যেও সমকামিতা রয়েছে বলে মানুষের সমকামিতাকে বৈধতা দিতে গেলে সমকামিতার প্রকৃত ক্ষতিকর দিকগুলো অসাড় হয়ে যায় না ।
মানব সৃষ্টির একটি সাধারণ প্রবণতা হলো নারী-পুরুষ তাদের সন্তানাদি নিয়ে পরিবার গঠন করবে ৷ নারী পুরুষের যৌন সঙ্গমের ফলে বংশবৃদ্ধি হবে এবং সভ্যতা সুদৃঢ় হবে ৷ কিন্তু যারা সমকামী তারা মূলত একই লিঙ্গের মধ্যে সঙ্গম করে থাকে । আর একই লিঙ্গে যৌন সঙ্গম করা হলে মানুষের সন্তান উৎপাদন কিংবা বংশবৃদ্ধির যে সার্বজনীন প্রাকৃতিক বিন্যাস তা বাধাগ্রস্ত হবে ।
গবেষণায় প্রমাণিত যে সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, হার্পিস, হেপাটাইটিস বি ও সি সহ নানা রোগের প্রকোপ বেশি । বিষমকামীদের তুলনায় সমকামীদের মধ্যে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেশি ৷ এছাড়া সমকামীরা মানসিকভাবে দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তাদের মধ্যে মাদকাসক্তির মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি । এছাড়া উপরে সমকামিতার স্বাস্থগত ক্ষতির অনেকগুলো গবেষণার ফলাফল দেখানো হয়েছে যা থেকে বোঝা যায় সমকামের স্বাস্থগত ক্ষতির সামনে মানবাধিকার সহ অন যেকোনো ইস্যু দাঁড়াতে ব্যর্থ ।
ফলে ধর্মকে বাহিরে রেখেও আমরা যদি শুধু মানুষ হিসেবে সমকামিতার ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করি তাহলেও এটি সমর্থণ করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না ।

লেখক: মোছাদ্দেক বিল্লাহ, সেশন-২০১৭-১৮, বর্ষ:-৩য়

তথ্যসূত্র:-

**https://www.catholiceducation.org/en/marriage-and-family/sexuality/the-health-risks-of-gay-sex.html
** https://blog.bdnews24.com/dr_mushfique/31516
** https://pro-lgbt.ru/bn/156/
**https://cmda.org/article/negative-health-consequences-of-same-sex-sexual-behavior/

**https://www.faijulhuq.com/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%B9%E0%A6%B2/
** https://www.google.com/amp/www.prothomalo.com/amp/northamerica/article/1610663/%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BE-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%259C%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%25AB%25E0%25A7%258B%25E0%25A7%259C%25E0%25A6%25BE
** https://medium.com/@articlebari/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%A3%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-4cd9e77b04f6
** https://barta24.com/details/%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0/52419/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87

** https://www.thewall.in/news-no-single-gay-gene-defines-sexuality-finds-largest-ever-dna-analysis/

**https://www.ekushey-tv.com/%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3/49251

** http://www.youth-suicide.com/gay-bisexual/gbsuicide1.htm

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *