সমৃদ্ধির রাজধানী আমাদের লক্ষ্মীপুর

“আচঁলে মেঘনার মায়া ডাকাতিয়া বুকে, রহমতখালি বয়ে চলে মৃদু এঁকে বেঁকে, নারিকেল সুপারি আর ধানে ভরপুর আমাদের আবাস ভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর।”

নাম না জানা এক কবি তার কবিতার ৪টি পংক্তির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের পুরো বর্ণনা দিয়েছেন। বাঙ্গালীরা নাকি নিজেদের কদর করতে জানে না, কথাটি লক্ষ্মীপুরের মানুষের বেলায় বললে মিথ্যা হবে না। কেননা ইতিহাস ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরে লক্ষ্মীপুর তথা লক্ষ্মীপুরের মানুষদের রয়েছে বিরাট অর্জন। অথচ এই ইতিহাস আমরা ভালোভাবে জানিনা অথবা অনেকে জেনে ও তা প্রচার করতে কুন্ঠা বোধ করেন।


প্রথমেই লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ সম্পর্কে জেনে নেই।লক্ষ্মী শব্দটি থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে। লক্ষ্মী বলতে ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী বুঝায় এবং পুর হলো শহর বা নগর। এ হিসাবে লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী।

হয়তো সেই কারণেই দেশের মোট উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ সয়াবিন উৎপাদিত হয় এ জেলায়। সেই সুবাদে ২০১৬ সালে জেলার ব্র্যান্ড বা পরিচিতি হিসেবে সয়াবিনকে চিহ্নিত করে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। নতুন ভাবে লক্ষ্মীপুর জেলাকে পরিচিত করা হয় ‘সয়াল্যান্ড বা সয়াবিনের লক্ষ্মীপুর’ নামে।


এ জেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ মো. নাজিম উদ্দিন মাহমুদের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ থেকে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ রচিত ‘রাজমালা বা ত্রিপুরা’র ইতিহাসে ‘লক্ষ্মীপুর’ নামে একটি মৌজা ছিল। অন্যমতে, ঐতিহাসিক ‘লক্ষ্মীদাহ পরগনা’ থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে। এ জেলার কৃতি সন্তান বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানা উল্যাহ নুরী’র ‘সুজা বাদশা সড়ক’ নামে রচিত ইতিহাস গ্রন্থে ‘লক্ষ্মীদাহ পরগনা’র কথা উল্লেখ রয়েছে।

ঐতিহাসিক ড. বোরাহ ইসলামাবাদকে লক্ষ্মীপুর বলে ধারণা করেছিলেন। আবার শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মজুমদার ‘রাজপুরুষ যোগীবংশ’ নামক গবেষণামূলক গ্রন্থে লিখেছেন, দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরীর বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ রায় এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ মনে করেন, লক্ষ্মী নারায়ণ রায় বা লক্ষ্মী প্রিয়া’র নামানুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ করা হয়েছিল।


যে ভূখন্ড নিয়ে বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলা অবস্থিত তার আদি চিত্র এ রকম ছিল না। অধিকাংশ স্থানে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা ক্রীড়ায় মত্ত থাকত। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তাঁর ‘সিউতী’ নামক ভ্রমণ বৃত্তান্তে ‘কমলাঙ্ক’কে সমুদ্র তীরবর্তী বলে বর্ণনা করেছেন। ‘কমলাঙ্ক’ বর্তমানে কুমিল্লা ও পূর্ববর্তী ত্রিপুরা জেলার প্রাচীন নাম। কবি কালিদাস তাঁর ‘রঘু বংশ’ কাব্যে ‘সুষ্মি দেশকে’ ‘তালিবন শ্যামকণ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছেন। কুমিল্লা জেলার দক্ষিণাংশ এবং নোয়াখালীর উত্তরাংশকে ‘সুষ্মি দেশ’ বলে বুঝিয়েছেন। প্রাচীনকাল থেকে এ এলাকা সমূহে প্রচুর তালবৃক্ষ জন্মে।


আজকের লক্ষ্মীপুর জেলা যে ভূ-খন্ড নিয়ে গঠিত ইতিহাসে তার কোন অতীত অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুস্কর বলে সমকালীন ঐতিহাসিকরা বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন। বিশ্বস্বর শুরের ‘ভুলুয়া’ রাজ্য পত্তনের সময় থেকে এ এলাকাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা যায়। এসময় পশ্চিমের মেঘনা নদী পর্যন্ত ভুলুয়া সীমানা বিস্তৃত ছিল। এ হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা ভুলুয়ার অধীন ছিল। চতুর্দশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ভুলুয়া জয় করেন। এখানে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানী স্থাপন করেন এবং একজন শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। মেঘনা উপকূলীয় সীমান্ত রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী নৌ-ঘাটি স্থাপন করা হয়। তখন প্রমত্তা মেঘনা নদী ফরাশগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জের উপর দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত ছিল। উলে্লখ্য, ভুলুয়া পরগণায় ভুলুয়া নামক একটি গ্রাম ছিল, যা মাইজদী (নোয়াখালী) শহরের দক্ষিণ পশ্চিমের ১৫ মাইল এবং ভবানীগঞ্জের (লক্ষ্মীপুর) ৩ মাইল পূর্বে ছিল। বর্তমান শহর কসবা ও তেওয়ারীগঞ্জ গ্রাম গুলির কোন এক জায়গায় ভুলুয়া গ্রামের সীমানা ছিল।

সপ্তদশ শতাব্দিতে মুঘলরা ভুলুয়া দখল করে। এ নৌ-খাঁটি মুঘল যুগে ‘শহর কসবা’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে যা ছিল পূর্বাঞ্চলে মুঘলদের প্রধান নৌ-ঘাঁটি। সপ্তদশ শতাব্দির মধ্য ভাগে সম্রাট শাহজাহানের সময় বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁন সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামে পর্তুগীজ জলদস্যু ও আরাকানদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ঢাকার ‘লালবাগ দূর্গ’ থেকে পাঠালেন স্থল বাহিনী; চাঁদপুরে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদীর পথ ধরে শহর কসবায় এসে নৌ-বাহিনীর সাথে মিলিত হয়। এভাবে লক্ষ্মীপুর জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমানা চিহ্নিত করা যায়। উত্তর ও পূর্ব সীমানা বর্তমান বরাবরই বহাল ছিল।

সম্ভবত বিভিন্ন সময় চর ছিল অথবা এমনও হতে পারে এ অঞ্চল নদীর বালুকা নিয়ে গড়ে উঠেছে। সব জায়গায় মাটি নরম, ঢিলেঢালা; তার সঙ্গে মিশ্রিত আছে অভ্রাল বালু কণা এবং এ মাটির স্তর বিন্যস্ত নয়। তাছাড়া কাদামাটি এখানে নেই বললেইচলে। পাতা হাট (চরপাতা, রায়পুর) এবং লক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে যে রকম চাষাবাদ করা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালীর মধ্যবর্তী এলাকা অতটা আবাদি নয়। গাছ গাছালির ফাঁকে ফাঁকে গ্রামীণ মানুষের বসত বাড়ি বেশ ছাড়া ছাড়া এবং অনেক অঞ্চল এখনও প্রাকৃতিক অবস্থায় পড়ে আছে। পাতা হাটের তুলনায় এখানকার জমিন নিচু এবং প্রত্যেক ডোবা সুন্দরবনের গাছ গাছালিতে ভরা।


নোয়াখালীর ইতিহাস লেখক প্যারী মোহন সেন (১৯৪০)-এর বর্ণনায় দেখা যায় যে, ‘‘লক্ষ্মীপুর অঞ্চল এক সময় বঙ্গোপসাগরের অংশ ছিল। এক সময় যে স্থানে ভীষণ ঊর্মিমালা উত্থিত হইয়া মানবের ভীতি সঞ্চার করিত, সেই স্থান এক সময়ে অর্ণবচরগণে পরিব্যাপ্ত ছিল। অধুনা সেই স্থানে বহু সংখ্যক মানব সুখে সাচ্ছন্দ্যে কালাতিপাত করিতেছে।’’ ড. কাদের (১৯৯১)-এর বর্ণনায় দেখা যায়, ‘ফেনী নদীর পশ্চিম মেঘনা নদীর পূর্ব, ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার অন্তর্গত মেহারেরদক্ষিণ এই বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগই সমুদ্র গর্ভজাত।’ এখানে নতুন ভূমি জেগে উঠলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ চাষাবাদ উপলক্ষে এবং আরব দেশের বহিরাগতরা ব্যবসা বাণিজ্য ও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে জনবসতি গড়ে তোলে। তারপর মেঘনা নদী ভাঙা-গড়ার মধ্যে এবং প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে করে লক্ষ্মীপুরের মানুষ টিকে আছে।

মুঘল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে লক্ষ্মীপুরে একটি সামরিক স্থাপনা ছিল। ষোড়শ থেকে উনবিংশ শতাব্দি পর্যন্ত এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে লবন উৎপন্ন হত এবং বাইরে রপ্তানি হত। লবনের কারনে এখানে লবন বিপ্লব ঘটে। স্বদেশী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরবাসী স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে। এ সময় মহাত্মা গান্ধী এ অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি তখন প্রায়ই কাফিলাতলি আখড়া ও রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান করতেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের জুন মাসে লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন। ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে পাক-হানাদার বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সতের বার যুদ্ধ হয়। এখানে তিনটি স্মৃতি স্তম্ভ, দুইটি গণকবর ও একটি গণহত্যা কেন্দ্র পাওয়া যায়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে লক্ষ্মীপুর ছিল লবণ ও বস্ত্র শিল্পে সমৃদ্ধ। সল্ট হাউজ ও কুঠি বাড়িগুলো এ শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করত। সাহাপুর কুঠি বাড়ি, জকসিন কুঠি বাড়ি ও রায়পুরের উত্তরে সাহেবগঞ্জ কুঠি বাড়ি লবণ ও বস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি নীল চাষে স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাধ্যকরণে নিয়োজিত ছিল। মেঘনা নদী, ডাকাতিয়া নদী, রহমতখালী নদী, ভবানীগঞ্জ খাল, ভুলুয়া খাল ও জারিরদোনা খাল অধিকাংশ ব্যবসা বাণিজ্যে ভূমিকা রাখত। রায়পুর, সোনাপুর, বড় খেরী, লক্ষ্মীপুর, দালাল বাজার, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জ ও ফরাশগঞ্জ ছিল জেলার প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীপুর মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।এর পর মুন্সেফ ও উকিল শ্রেণী লক্ষ্মীপুরকে শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। তাঁরা লক্ষ্মীপুরে একটি ইংলিশ স্কুল (লক্ষ্মীপুর মডেল হাই স্কুল), পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হল, বাণী রঙ্গালয় মিলনায়তন ও বার লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। শহরের স্বর্ণকার পট্টি ছিল শহুরে লোকের মদিরালয় বা নিষিদ্ধ পল্লী।

১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর কে জেলা ঘোষণা দিয়ে এর উদ্বোধন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেনারেল হুসেইন মোঃ এরশাদ। এর আগে লক্ষ্মীপুর ছিল নোয়াখালী জেলার একটি উপজেলা।
গবেষণা সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মেঘনা উপকূলীয় একটি জনপদ। চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রাম এ অঞ্চল কে সম্মৃদ্ধ করেছে। মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ জনপদ নারিকেল, সুপারি, ইলিশ এবং সয়াবিনের জন্য পুরো দেশে বিখ্যাত। নদী ভাঙ্গা এ এলাকার প্রধান সমস্যা। বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে সব কয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে রয়েছে লক্ষ্মীপুরের গুরুত্বপূর্ন ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কমরেড তোয়াহ, , বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারএবং সানা উল্লাহ নূরীর জন্ম স্থান লক্ষ্মীপুরে। দেশের জাতীয় পতাকা যিনি সর্ব প্রথম উড়িয়েছেন সেই আ স ম আবদুর রবের জন্মভূমি এ লক্ষ্মীপুরে। ১৯৭১ সালে এখানেও ছোট বড় কয়েকটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ পাকিস্তানী শাসনের পরাধীনতা থেকে লক্ষ্মীপুর মুক্ত হয়। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহর জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর। এভারেষ্ট পর্বত বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদার, শত দেশ ভ্রমণকারী নারী নাজমুন নাহার সোহাগী লক্ষ্মীপুরের নাগরিক হিসাবে গর্ববোধ করেন।মহানমুক্তি যুদ্ধে কোন রাজাকারের জন্ম লক্ষ্মীপুরের মাটিতে হয়নি বরং এইএলাকার বহু মুক্তি যোদ্ধার হাত ধরে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে।


কমরেড তোয়াহার হাতে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, মরহুম জমির আলীর হাতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, আ স ম আবদুর রবের হাতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সাবেক জাসদ বর্তমানে জেএসডিসহ অন্তত ৫টি বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের জন্মদাতাদের জন্মভূমি লক্ষ্মীপুর। বর্তমানে বিশ্ব বিখ্যাত ইলিশের উৎপাদনস্থল এবং সয়াবিন উৎপানের স্বর্ণ রাজ্যের নামও লক্ষ্মীপুর। নারিকেল, সুপারি, ঘিগজ মুরি এবং মহিষের দই এ এলাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে যুগযুগ ধরে। সে ঐতিহ্যগুলো শুধু লক্ষ্মীপুরের সম্পদই না, এগুলো বাংলাদেশের গর্বের সম্পদও বটে।

এ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে, দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, শাহ জকি (রাঃ) মাজার শরীফ, তিতাখাঁ জামে মসজিদ, মজুপুর মটকা মসজিদ, রায়পুর জ্বীনের মসজিদ, রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এশিয়ায় বৃহত্তম), রায়পুর বড় মসজিদ, মান্দারী বাজার বড় জামে মসজিদ, নন্দী গ্রামের নাগ বাড়ি, দালাল বাজার মঠ ও খোয়া সাগর দিঘী, রামগতি বুড়াকর্তা মন্দির ও মেলার মতো মহু নিদর্শন।

এছাড়াও ভ্রমণ পিয়াসুদের জন্য রয়েছে, আলেকজান্ডার মেঘনা বীচ, মতিরহাট বালুচর, মজুচৌধুরী হাট, পৌর শিশু পার্ক, রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ী, দিঘলী নবীনগর, কমলা সুন্দরী দিঘীর মতো অসংখ্য দৃষ্টি নন্দন স্থান।
‘নারিকেল, সুপারি আর সয়াবিনে ভরপুর, আমাদের আবাসভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর’। হ্যাঁ, এ জেলায় প্রচুর পরিমাণে নারিকেল, সুপারি ও সয়াবিন ছাড়াও ধান, গম, সরিষা, বাদাম, পাট, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা, আখ ও চীনাবাদাম প্রচুর পরিমাণে এখানে চাষাবাদ হয়ে থাকে। এ এলাকায় খুব পরিচিত ফলের মধ্যে রয়েছে, আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, আমড়া, জাম ও তাল ইত্যাদি।

লেখক: মাইন উদ্দিন সালেহ, ৪র্থ বর্ষ, সেশন: ২০১৬-১৭

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *