কোভিড-১৯ বাস্তবতা এবং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

কোভিড-১৯ বাস্তবতা এবং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

২০১৯ এ চীনে উদ্ভুত হওয়া ভয়াবহ করোনা ভাইরাস বর্তমান বিশ্ববাসীর কাছে সবচেয়ে বড় আতংকের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী  প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আজ অবদি সারা বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১,৪৪,৫০,২৩৩ জন, যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ৬,০৫,১১৬ জন। এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত, এ পর্যন্ত আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১৮৮! ( ২১ জুলাই, ২০২০ )। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে বাংলাদেশে এই পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২,১০,৫১০ জন, যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ২,৭০৯ জন (২১ জুলাই, ২০২০, যদিও বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে সরকারের দেওয়া তথ্যে বিশ্লেষক এবং সাধারণ নাগরিকদের বরাবরই সন্দেহ আছে) । ইতঃপূর্বে মুখোমুখী হওয়া অন্যান্য মহামারী ভাইরাস থেকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা এবং কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পরিমাণ সবদিক থেকেই যোজন যোজন দূরত্বে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস কি চীনের কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে নাকি এটা প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হওয়া কোনো ভাইরাস তা নিয়ে নানান বক্তব্য- বিতর্ক থাকলেও যেটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তা হলো করোনা ভাইরাস আমাদের যেসব চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তবতার মুখোমুখী করেছে তা নিয়ে। বাণিজ্যিক – অর্থনৈতিক দিক থেকে শুরু করে শিক্ষাখাত পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই  ভাইরাস তৈরি করেছে এক ভয়াবহ এবং আশঙ্কাজনক স্থবির অবস্থা। যেহেতু করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই মহামারীর প্রকোপ চলতেই থাকবে, তাই রাতারাতি এই স্থবির পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিনই বটে।

বিশ্বজুড়ে এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদসংকুল পথ অতিক্রম করছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশ্বব্যাংক এরই মধ্যে পূর্বানুমান করেছে করোনার কারণে বর্তমান অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমবে ২ শতাংশের মতো। প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্যগুলোর ক্রয়াদেশ কমেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহে তৈরি হচ্ছে বাঁধা, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী হয়ে পড়েছেন বেকার কিংবা আটকা পড়েছেন দেশে এসে, অনেকেই আছেন ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায়। বন্ধ হয়ে আছে দেশের বিপুল সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এবং  সীমাহীন দুর্নীতি মানুষের কষ্ট এবং দুর্ভোগকে বাড়িয়েছে আরো কয়েক গুণ।

সব সেক্টরের পাশাপাশি দেশের শিক্ষাখাতও পড়েছে এক নজিরবিহীন সংকটে। মধ্য মার্চে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং কোভিড আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এড়াতে সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছিলো দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা আজ অবদি অব্যাহত আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, কবে নাগাদ নেওয়া সম্ভব হবে তাও অনিশ্চিত। 

দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববদ্যালয় আগে থেকেই নানা কারণে সেশনজটে ভুগছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে টানা ক্লাস – পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন আরো ভয়াবহ জটে পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে, তেমনি সেশনজটে না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও জটে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।  এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সেশনজট এড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনার মধ্যে রাখতে গত এপ্রিলের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহকে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেয়। ইউজিসির পরামর্শে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্বপবিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহও অনলাইন ক্লাস ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। অনলাইন ক্লাস ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানামুখী অভিযোগকে আমলে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে ‘অনলাইন ক্লাস’ এবং ‘অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম’ এর ধারণা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অনলাইন ক্লাস অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমেরই একটা অংশ। অনলাইন ক্লাস সাধারণত জুম, গুগল ক্লাসরুম, গুগল মিটের মতো এপস এর মাধ্যমে দেওয়া হয়, বিশেষ করে জুম এবং গুগল মিটে অনলাইন লাইভ ক্লাস নেওয়া হয়। অনলাইন ক্লাসের বাইরে আরো কিছু অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম হতে পারে ক্লাসের ভিডিও করে ফেসবুকের ক্লোসড গ্রুপ কিংবা ইউটিউব অথবা গুগল ক্লাসরুমে আপলোড দেওয়া, এবং এটা অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে লাইভ ক্লসের ক্ষেত্রে অধিক সাশ্রয়ী।

এ পরিস্থিতিতে নানামুখী সীমাবদ্ধতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নানান অভিযোগ আসছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একটা উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন- মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অনলাইন ক্লাস করার জন্যে যেসব এপস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, সে সব এপস ব্যবহারের জন্যে ভালো মানের এন্ড্রয়েড ফোন কিংবা ল্যাপটপের প্রয়োজন। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর সেই মানের ডিভাইস নেই। সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ডাটা কিনে ক্লাস করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার। নিয়মিত মোবাইল ডাটা কিনে ক্লাস করার সামর্থ্য অনেক শিক্ষার্থীরই নেই। তার সাথে যোগ হয়েছে অত্যন্ত দুর্বল গতির ইন্টারনেট স্পিড। কাগজে-কলমে আমাদের দেশে ফোর জি ইন্টারনেটের কথা বলা হলেও সত্যিকার অর্থে আমরা এখনো টু জির কাছাকাছি। এমতাবস্থার বাকী সব সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের একার পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ কারণে খোদ ইউজিসির তথ্যমতে, মাত্র ৫০ থেকে ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারছে।

কিন্তু তার মানে কি এই, যে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো ? করোনা ভাইরাসের আপদকালীন এই সময় কি আমরা তাহলে সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখবো? সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মধ্যে কি আসলেই কোনো সমাধান আছে ?

শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস নিয়ে যেসব জায়গায় আপত্তি, তার প্রায় সবগুলোই যৌক্তিক।  কিন্তু করোনার অজুহাতে কতদিন বসে থাকা সম্ভব! নিকট ভবিষ্যতে ছাত্ররা প্রকারান্তরে পুরো জাতিই তো এর ভুক্তভোগী হবে। তাই এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসে যাওয়াই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, তবে সেটা অবশ্যই বিদ্যমান সমস্যাকে এড়িয়ে নয়। অনলাইন ক্লাসের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নানান সমস্যা সমাধানের পথে সম্ভাব্য কিছু সমাধান হতে পারেঃ

(ক) ডিভাইস সমস্যা খুব বেশি শিক্ষার্থীর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে একযোগে উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে। সংযুক্ত করা যেতে পারে বিভাগের এলামনাই সদস্যদের।  সামর্থ্য থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্যে ডিভাইসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তা সম্ভব না হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যে বিনাসুদে কিংবা নামমাত্র সুদে কিস্তিভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা করে ডিভাইস কিনে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা কিস্তিভিত্তিক পরিশোধ করবে।

(খ) মোবাইল ডাটা কেনার ব্যয়ভার বহনের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্যে মাসিক একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর সাথে কথা বলে সরকার যদি শিক্ষার্থীদের জন্যে কমমূল্যে মোবাইল ডাটার ব্যবস্থা করতে পারে, তাও উত্তম সমাধান।

(গ) প্রত্যন্ত অঞ্ছলে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর জন্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর সাথে,যদিও এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ।

(ঘ) সাধারণত লাইভ ক্লাস করার জন্যে যে পরিমাণ ইন্টারনেট স্পিড এবং ডাটার প্রয়োজন হয়, আপলোডকৃত রেকর্ডেড ভিডিও দেখতে তার চেয়েও কম স্পিড এবং ডাটার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে যদি শিক্ষকরা ক্লাসের ভিডিও করে তা ইউটিউব কিংবা গুগল ক্লাসরুমে আপলোড করে দ্যান, তাহলে শিক্ষার্থীরা সহজেই তা ডাউনলোড করে ক্লাসের লেকচার দেখে নিতে পারেন। তবে এই ভিডিও তে ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন থাকায় ক্লাস অনেক সময় ইন্টারেক্টিভ হয় না। সে ক্ষেত্রে সম্মানিত শিক্ষকরা আলাদা সল্ভ ক্লাস রাখতে পারেন শিক্ষার্থীদের জন্যে।

এছাড়া শিক্ষকরা যদি একান্তই জুম কিংবা গুগল মিটে লাইভ ক্লাস করতে চান তবে সে ক্ষেত্রেও সমাধান আছে। জুম কিংবা গুগল মিটে ক্লাস রেকর্ড করার সিস্টেম আছে। রেকর্ড করা ক্লাস পরে আপলোড করে দিলে যারা লাইভ ক্লাসে জয়েন করতে পারবেন না, তারাও পরবর্তীতে ক্লাসের লেকচার দেখে নিতে পারবেন।

(ঙ) ক্লাসে ব্যবহৃত পিডিএফ, বই, স্লাইড শিক্ষকরা গুগল ক্লাসরুমে আপলোড করে দিতে পারেন। তাতে শিক্ষার্থীরা সগজেই ক্লাস ম্যাটেরিয়ালস গুলো পেয়ে যাবে ( আমার ধারণা সব শিক্ষকই এটা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন) 

(চ) যেহেতু সব শিক্ষার্থী লাইভ ক্লাসে জয়েন করতে পারছে না, তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা নেওয়ার প্রশ্ন অবান্তর। এছাড়া নানা ধরনের এসাইন্ট কিংবা প্রেসেন্টেশনের জন্যে আপাতত শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত রাখা জরুরি। পারতপক্ষে এ ধরনের কোনো এসাইন্টম্যান্ট বা প্রেসেন্টেশন নিতে হলে তা যেনো কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের নাম্বার বা গ্রেডিং এ কোনো প্রভাব না পড়ে, যে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কিন্তু মানসিক ভাবে অনলাইন ক্লাস করার জন্যে কি আমরা প্রস্তুত? সম্ভবত না। আমরা নিজেদের ডিজিটাল দাবী করলেও অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবিক অর্থে নিজেদের এনালগ করে রেখেছি। ইংরেজিতে একটা phrase আছে, ‘Status quo’ এর মানে হলো পরিবর্তনকে মেনে না নেওয়ার মানসিকতা। অনলাইন ক্লাসের মতো পদ্ধতিকে আমাদের আরো আগেই ওয়েলকাম করার কথা ছিলো। করোনা না আসলেও অদূর ভবিষ্যতে আমাদের অনলাইন ক্লাসে যেতেই হতো। যে ইংল্যান্ড-আমেরিকা কিংবা ইউরোপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমরা আমাদের বেঞ্চমার্ক মনে করি, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই করোনাকালে নয়, বহু আগেই অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতিতে চলে গেছে। হয়তো অবকাঠামোগত দিক থেকে আমাদের সেই পর্যায়ের সক্ষমতা নেই, কিন্তু সেটা নিয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কোনো চিন্তাভাবনা ছিলো বলে মনে হয় না। ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলুশনের কথা বলছি আমরা, অথচ আমরা ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলুশনের কম্পোনেন্ট গুলো যদি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত না করি, তবে গোড়াতেই গলদ থেকে যায়।

অনলাইন ক্লাস শুরু করার কারণেই আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো ফেস করছি, এর সমাধানের পথ খোঁজার চিন্তা করতে পারছি। ক্লাস শুরু না করলে তো এ সমস্যা গুলো তৈরিই হতো না, আর সমাধানের পথের সন্ধান তো দূরের কথা! দীর্ঘমেয়াদে সেটা কি ভালো কিছু হতো ? তাই অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগকে দিনশেষে আমাদের স্বাগত জানাতেই হবে।

এই করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়ে গেলো অনেক কিছু। চিকিৎসা কিংবা শিক্ষা ব্যবস্থা যে জাতির দর্পণ অনেকাংশেই, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো আমাদের। শিক্ষা খাতে – গবেষণায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানো এবং সেই বরাদ্দ ‘পাঁচ ভূতে’ না খেয়ে যাতে সঠিক বাস্তবায়ন হয়, তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবী।

সবশেষে এটাই বলতে হয়, আমরা ফিরতে চাই ক্লাসে। ফিরতে চাই সেই চেনা ক্যাম্পাসে। ক্লসের ফাঁকে আড্ডায় মেতে উঠতে চাই সেই চিরচেনা শ্যাডো কিংবা হাকিম চত্বরে। ব্যস্ত সময় কাটাতে চাই ই-লাইব্রেরি কিংবা সেন্ট্রাল লাইব্রেরি তে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সেই চাওয়া পূরণ করুক। তা না আসা পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস হয়ে উঠুক সবার জন্যে এক্সেসেবল, জ্ঞান হোক উন্মুক্ত।


লেখক: ফারভেজ মোশাররফ

 ৩য় বর্ষ

Spread the love

Post Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *